Logo

কিশোর বয়সে অভিমানে বাড়ি ছাড়েন শামছু, ফিরলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ হয়ে

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৩৮
কিশোর বয়সে অভিমানে বাড়ি ছাড়েন শামছু, ফিরলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ হয়ে
অভিমানে ১৩ বছরেই বাড়ি ছাড়েন শামছু, ফিরলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ হয়ে

শৈশবের অভিমানে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়েছিলেন শামছু। এরপর কেটে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। পরিবারের সদস্যরা একসময় তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় পর ৭০ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের সাহাপাড়া মহল্লায় তাঁর ফিরে আসার খবরে স্বজনদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেয়ের জামাই মিন্টুকে সঙ্গে নিয়ে নিজের শিকড়ের সন্ধানে বাড়িতে ফেরেন শামছু। দীর্ঘদিন পর তাঁকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজনেরা। তাঁকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ।

শামছু সাহাপাড়া মহল্লার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে। পরিবারের পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। জানা যায়, কৈশোরে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাঁর বাবা ও ভাইয়েরা দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তাঁর সন্ধান পাননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একপর্যায়ে তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয় পরিবার।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে কয়েক দশক আগে মারা যান শামছুর বাবা-মা। পর্যায়ক্রমে তাঁর চার ভাই ও দুই বোনও মারা গেছেন। বর্তমানে তাঁদের বসতভিটায় বসবাস করছেন ভাইদের সন্তানেরা। ছোটবেলায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া এক চাচার কথা তাঁরা পরিবারের বড়দের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে কখনো ভাবেননি, সেই চাচা একদিন বৃদ্ধ বয়সে ফিরে আসবেন।

বিজ্ঞাপন

শামছুর বোন রুবি বেগম বলেন, “আমরা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি আমার ভাই বেঁচে আছেন এবং সে ফিরে আসবে। জীবনের এই শেষ সময়ে আমার ভাইকে পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত, তবে আফসোস আমার বাবা মা ও অন্যান্য ভাই বোনেরা তাকে দেখে যেতে পারলেন না।”

বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বৃদ্ধ শামছু বলেন, শয়তানি করে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে গেছিলাম। সেখান থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে ঠেলাগাড়ি ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছি। সংসারে তার ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে, ছেলেরা গাড়ি চালায়। বর্তমানে চট্রগ্রামের কর্ণফুলী ব্রীজের পাশে কালনী বাজার এলাকায় বসবাস করেন।

এতো দিন কেন আসেননি প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি, এখন আসার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো মারা যাবো তাই মৃত্যুর আগে বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে ও বাবার ভিটার মাটি স্পর্শ করে জীবনের পুর্ণিতা পেতে এসেছি। বাড়ি চিনলেন কিভাবে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বড় মসজিদের পাশেই আমাদের বাড়ি ছিল, মখদুমিয়া জামে মসজিদের পাশে এসে খোঁজ করতে করতে বাড়িতে চলে এসেছি।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD