Logo

ফেরি নেই, জনবলও নেই : অনিশ্চয়তায় চিলমারী-রৌমারী নৌপথ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৩৩
ফেরি নেই, জনবলও নেই : অনিশ্চয়তায় চিলমারী-রৌমারী নৌপথ
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার মধ্যে ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দুটি ফেরি। অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে ফেরি পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও। বন্ধ রয়েছে ঘাটের অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ৩৪৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চললেও ফেরি সার্ভিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

নাব্যতা সংকটে বন্ধ ফেরি চলাচল

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। কয়েক দফা বন্ধ ও চালুর পর নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট থেকে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু হয়নি। ফলে কবে নাগাদ এ নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুটি ফেরি অন্য ঘাটে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ এবং পরে ‘কদম’ মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে নেওয়ার কথা বলে ঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বর্তমানে কুঞ্জলতা চাঁদপুর ঘাটে এবং কদম ভোলা ঘাটে সংযুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ফেরি দুটি অন্য ঘাটে সংযুক্ত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। ফলে ফেরি দুটি মেরামতের জন্য সরানো হয়েছিল, নাকি অন্য ঘাটে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্যত্র

চিলমারী ঘাটে বাণিজ্য, মেরিন, হিসাব, প্রকৌশল ও ফেরি পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে প্রায় ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে ধাওয়াপাড়া নদীবন্দর, ঢাকা-কাশীপুর ও আরিচা ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত বা বদলি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া চিলমারী কলেজ মোড়ের অস্থায়ী কার্যালয়টিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিলমারী নদীবন্দরের সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশের বিভিন্ন ফেরিঘাটে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেরি চালু করা হলে তাঁদের আবার এই ঘাটে নিযুক্ত করা হবে।

তবে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা সরিয়ে নেওয়া ফেরি দুটি কবে ফিরবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বাড়ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভোগান্তি

চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চালু থাকলে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের নদী পারাপার সহজ হয়। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চিলমারীর ট্রাকচালক সাদেকুর রহমান বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় তাঁদের বিকল্প পথে ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বাড়ছে। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালু হলে দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ফেরি চালুর দাবিতে সংসদে কথা বলবেন এমপি

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, চিলমারী-রৌমারী নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ফেরি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফেরিঘাটে সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ বিষয়ে সংসদে নোটিশও দিয়েছেন। আগামী সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

বিজ্ঞাপন

ফেরি দুটি ফিরিয়ে এনে সার্ভিস চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD