ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতার মধ্যেই বাঁধে ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় হাজারো মানুষ

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তার মধ্যেই সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যতলা এলাকায় বাঁধের প্রায় ৩৫০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাঁধের মাত্র দেড় ফুট অংশ অবশিষ্ট থাকায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও নদীর উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে এ ভাঙন দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাঙনের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েন।
রাতেও চলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্যতলা এলাকার বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রথমে ফাটল দেখা দেয়। পরে দ্রুত ভাঙন বাড়তে থাকলে এলাকাবাসী মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করেন। খবর পেয়ে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিজেদের বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ও জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেও তাঁদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
প্লাবনের আশঙ্কা, ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে বাঁধ ভেঙে প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর পানিতে প্লাবিত হতে পারে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার জিওব্যাগ প্রস্তুত রাখা হলেও সেগুলো সময়মতো কাজে লাগানো হয়নি। আগে থেকেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এতটা নাজুক হতো না বলে মনে করছেন তাঁরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়েছি। খুব খারাপ অবস্থা। আমি সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। এছাড়া শ্যামনগরের ইউএনওকেও জানিয়েছি। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে জিওব্যাগ দিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ করছেন।’








