ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ১০ মিনিটই যথেষ্ট

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব স্থাপনায় হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনীর মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বা দুটি স্থাপনা এখনো হামলার বাইরে রয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে। সেখানে অভিযান পরিচালনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০ মিনিট প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তেহরান সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। তবে, তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা যায় না। কারণ, একবার সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা বললেও তারা পরে তা থেকে সরে আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তেহরান সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে দেশটির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা সম্ভব নয়। কারণ, ইরান একবার সমঝোতায় সম্মত হওয়ার কথা জানালেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দেশটি কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে কি না, সেটি দেখার বিষয় বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় তাঁর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই দুই নেতার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
বিজ্ঞাপন
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ও প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
কান নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ১০টি পরিবহন বিমান দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার ও সৌদি আরবেও মার্কিন সামরিক বিমান পৌঁছেছে।
তবে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রিপাবলিকান পার্টি ইতোমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। তবে ইরানের পক্ষ থেকে আকস্মিক হামলার প্রস্তুতির কোনো তথ্য পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানও। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক কমান্ডারদের যেকোনো নতুন হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদুল্লাহিও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ইরানও পাল্টা আঘাত হানবে। ফলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট








