হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা, চাকরি ছেড়ে দিলেন শিক্ষিকা

পোশাকের কারণে কি একজন যোগ্য শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে যেতে হবে? আজারবাইজানের রাজধানী বাকু ও সুমগাইতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্কুলে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে চাকরি ছেড়েছেন ২১ বছরের অভিজ্ঞ এক নারী শিক্ষিকা।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক নিষিদ্ধ করে সংশোধিত আইন জারি করে। শুরুতে এই বিধিনিষেধ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য বলে জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। এর প্রতিবাদে চাকরি ছাড়েন ওই অভিজ্ঞ শিক্ষিকা। তাঁর কাছে পেশাগত জীবনের চেয়ে হিজাবের গুরুত্ব বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কুলে হিজাব পরতে না পেরে চাকরি ছেড়ে দেওয়া ওই শিক্ষিকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজারবাইজানের বিভিন্ন এলাকায় হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। হিজাব নিয়ে আজারবাইজানের বিতর্ক দেশটির গণ্ডি ছাড়িয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশগুলোতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশটিতে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কয়েকজন শিক্ষিকা হিজাবের পরিবর্তে আজারবাইজানের ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ ‘কেলাগাই’ পরে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাতেও কর্তৃপক্ষের আপত্তি কাটেনি। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বরখাস্ত করা হচ্ছে, আবার কাউকে কাউকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও অভিভাবকদের মতে, একজন শিক্ষকের পোশাকের চেয়ে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও নৈতিকতা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের এভাবে পেশা ছাড়তে বাধ্য করা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলেও তাঁরা মনে করছেন।
নিষেধাজ্ঞার ফলে স্কুলে হিজাবের উপস্থিতি কমতে পারে। তবে অভিজ্ঞ শিক্ষিকাদের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের গড়ে ওঠা সম্পর্কের শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।








