Logo

খননযন্ত্র রপ্তানিতে চীনের কড়াকড়ি, ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:৩৯
খননযন্ত্র রপ্তানিতে চীনের কড়াকড়ি, ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ছবি: সংগৃহীত

হিমালয় সীমান্তে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ভারত। এসব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক আধুনিক খননযন্ত্র, যার বড় অংশই চীন থেকে আমদানি করা হয়। তবে এবার এসব যন্ত্র রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং। এতে ভারতের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় থাকবে বিশাল সুড়ঙ্গ খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সরঞ্জাম।

নতুন নিয়ন্ত্রণের তালিকায় পাহাড়ি এলাকায় কংক্রিট ছিটানোর যন্ত্রও রয়েছে। চীনের দাবি, এসব সরঞ্জাম বেসামরিক কাজের পাশাপাশি সামরিক প্রকল্পেও ব্যবহার করা সম্ভব। তাই চীনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে, এমন সংবেদনশীল দেশ ও অঞ্চলে এগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করা হবে।

চীনের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের ওপর। দুই দেশের মধ্যে হিমালয় সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সীমান্তে সেনা চলাচল সহজ ও দ্রুত করতে ভারত সড়ক এবং রেলপথ নির্মাণ করছে। এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক সুড়ঙ্গ খননের প্রয়োজন হওয়ায় চীনের নতুন বিধিনিষেধ নির্মাণকাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের সুড়ঙ্গ খননযন্ত্রের বাজারে চীনের অংশ প্রায় ৭০ শতাংশ। দেশটির শীর্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইকুইপমেন্ট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের তৈরি যন্ত্রপাতি বিশ্বের ৩৬টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানেও সুড়ঙ্গ খননযন্ত্র তৈরি হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যে চীনা সরবরাহকারীদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া ভারতের জন্য কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। আগামী পাঁচ বছরে সুড়ঙ্গ নির্মাণ খাতে ৯৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। একই সঙ্গে নির্মাণ সরঞ্জাম উৎপাদনে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে ১২০ কোটি ডলারের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

তবে উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলে মনে করেন দেশটির প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর প্রেসিডেন্ট আর শঙ্কর রমন।

সূত্র: এনডিটিভি, ব্লুমবার্গ

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD