Logo

তোশকের নিচে মাদক রেখে ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা, ধরা পুলিশ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:৩৮
তোশকের নিচে মাদক রেখে ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা, ধরা পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় এক ধর্মীয় নেতাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। বাড়িতে স্থাপন করা গোপন ক্যামেরার ভিডিওতে ওই কর্মকর্তাকে বিছানার গদির নিচে হেরোইনের প্যাকেট রাখতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাঞ্জাবের খান্না শহরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সুখদেব সিং স্থানীয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা (সিআইএ) বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি সামনে আসার পর পুলিশের অভিযান ও মাদক উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খান্নার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ড. দর্পণ আহলুওয়ালিয়া সুখদেব সিংকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তদন্তসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়িতে পুলিশের অভিযানের মধ্য দিয়ে। পুলিশের দাবি, গিরির গাড়িচালক গুরজন্ত সিং ওরফে জন্তাকে ৭ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহন্তের সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পারে পুলিশ। এরপর গিরির বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় পুলিশের একটি দল। অভিযানের সময় বিছানার গদির নিচ থেকে প্রায় ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক পাচারের অভিযোগে মহন্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের স্থাপন করা গোপন ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ পোশাকে এএসআই সুখদেব সিং পুলিশের দল পৌঁছানোর আগেই একটি কক্ষে প্রবেশ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় তিনি বিছানার গদির নিচে একটি প্যাকেট রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের সদস্যরা ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে তল্লাশির সময় পুলিশ ঠিক সেই জায়গা থেকেই হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে, যেখানে এর আগে এএসআইকে প্যাকেট রাখতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এএসআইয়ের কথিত ভূমিকা, হেরোইন উদ্ধারের পরিস্থিতি এবং অভিযানে অন্য কোনও পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে এই দল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে পাঞ্জাবের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের সমালোচনা করেছে বিরোধী শিরোমণি আকালি দল। দলটির প্রধান সুখবীর সিং বাদল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এএপি-এর আইন-শৃঙ্খলার মডেলে আপনাকে স্বাগতম! খান্না পুলিশের এএসআই সরাসরি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছেন, যিনি ঘরে ঢুকে তোশকের নিচে মাদকের প্যাকেট লুকিয়ে রাখছিলেন। এএপি তো সেবা হোম ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষকে ফাঁসাতে যে পুলিশ নিজেই ঘরে মাদক পৌঁছে দেবে, তা কে জানত?’

সূত্র: এনডিটিভি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD