Logo

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ঢালছেন ধনকুবেররা, শীর্ষে ইলন মাস্ক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থ ঢালছেন ধনকুবেররা, শীর্ষে ইলন মাস্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারের পাশাপাশি অর্থের জোগান নিয়েও চলছে বড় প্রতিযোগিতা। পছন্দের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছেন দেশটির শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো। এই অর্থদাতাদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

বিজ্ঞাপন

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে শীর্ষ ২০ দাতা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। গত রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্লেষণটিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জমা হওয়া অনুদানের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শীর্ষ ২০ দাতার দেওয়া অর্থ এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, নির্বাচনি প্রচারে বিজ্ঞাপন বাবদ যে বিপুল অর্থ খরচ হতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য অংশের জোগান দিচ্ছেন এই দাতারা।

বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের পরিমাণ আগের নির্বাচনগুলোর রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

•

•

বিজ্ঞাপন

অনুদানের তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা ইলন মাস্কের অর্থের বড় অংশ যাচ্ছে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সিনেট নির্বাচনি প্রচারে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্যাক্সটনকে সহায়তায় ২০ কোটি ডলারের বেশি—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা—ব্যয় করেছেন মাস্ক।

ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে মাঠপর্যায়ের প্রচার কার্যক্রম গড়ে তুলতেও অর্থ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কেনটাকি ও আলাস্কার নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকে সহায়তা করেছেন মাস্ক।

দাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন শিল্পপতি রিচার্ড ও এলিজাবেথ উহলিন। রিপাবলিকানদের পক্ষে তাদের অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে রিপাবলিকানপন্থি সংগঠন ওয়ান নেশন, যারা দিয়েছে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেন হোরোউইটজ এবং তাদের প্রতিষ্ঠান আন্দ্রেসেন হোরোউইটজ সম্মিলিতভাবে অনুদান দিয়েছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। হেজ ফান্ড বিনিয়োগকারী জেফ ইয়াসের অনুদানের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ডলার।

প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ব্যক্তিরাও নির্বাচনি প্রচারে বড় অঙ্কের অর্থ ঢালছেন। ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান ও তার স্ত্রী আনা ব্রকম্যান রিপাবলিকানদের দিয়েছেন ৫ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ডেমোক্র্যাটদের অনুদান দিয়েছেন ৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোকে সহায়তায়।

বিজ্ঞাপন

ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান রিপল ল্যাবস ও এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস লারসেন মিলিয়ে দিয়েছেন ৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। কয়েনবেসের অনুদান ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া উইঙ্কলভস ভাই ক্যামেরন ও টাইলার রিপাবলিকানদের দিয়েছেন ৫ কোটি ৩২ লাখ ডলার। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ক্রিপ্টো খাতের প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা বড় অর্থদাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অনুদানও উল্লেখযোগ্য। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। একই লক্ষ্যে হাউজ মেজরিটি ফরোয়ার্ডের অনুদান ৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের সহায়তায় আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক দিয়েছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জর্জ ও আলেকজান্ডার সোরোস সম্মিলিতভাবে অনুদান দিয়েছেন ১০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ দিয়েছেন ৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এসব অর্থ ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি প্রচারে ব্যয় হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রিপাবলিকানদের বড় দাতাদের মধ্যে রয়েছেন মরিয়ম অ্যাডেলসন। তার অনুদানের পরিমাণ ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। হেজ ফান্ড বিনিয়োগকারী পল সিঙ্গার দিয়েছেন ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। এ ছাড়া কোচ ইনকরপোরেটেড রিপাবলিকানদের অনুদান দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে এবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থসহায়তা নির্বাচনি প্রচারে ধনকুবেরদের প্রভাব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD