লোহাগাড়ায় শিক্ষক অপহরণ, দুই ঘণ্টায় উদ্ধারসহ আটক দুই

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অপহরণের শিকার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অভিযোগ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অপহরণকারীরা ওই শিক্ষকের পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে লোহাগাড়া থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষক স্বরুপ কান্তি দাশ লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ওয়ার্ড বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার সকাল ৭টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন স্বরুপ কান্তি দাশ। সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে পদুয়া বাজারে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে অপহরণকারীরা শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তাঁর স্ত্রী জেলী চৌধুরীকে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানায়। স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিকেল ৩টার মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় ফোন করে অপহরণকারীরা স্বরুপ কান্তি দাশকে মারধর করে তাঁর কান্নার শব্দ স্ত্রীকে শোনায়। পরিবার দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা জানালে মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ টাকা নিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাট গোলচত্বরে যেতে বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় শিক্ষকের স্ত্রী লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ জানানোর পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত শিক্ষকের অবস্থান শনাক্ত করে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযান থেকে অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ছমদ আলী মুন্সী পাড়ার রফিক উদ্দিন (৫৩) এবং একই ইউনিয়নের আলী সিকদার পাড়ার নেজাম উদ্দিন (৪৮)।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
লোহাগাড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।








