Logo

শাহজাদপুরে হুমকির মুখে তাঁতশিল্প, লোকসানে দিশেহারা মালিকরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:২৬
শাহজাদপুরে হুমকির মুখে তাঁতশিল্প, লোকসানে দিশেহারা মালিকরা
ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এখন গভীর সংকটে। কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বাজারে বিক্রি কমে আসা এবং রপ্তানি হ্রাসের কারণে শিল্পটি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। একসময় লাখো মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এই শিল্প এখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মোগল আমলে যাত্রা শুরু করা শাহজাদপুর উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম কাপড়ের হাট হিসেবে পরিচিত। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এ অঞ্চলে হাতে চালিত তাঁতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে বড়জোর ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

তাঁতশিল্পের এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ সুতা ও রঙের দাম বৃদ্ধি। গত কয়েক বছরে এসব কাঁচামালের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে এক বেল সুতা কিনতে যেখানে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা লাগত, বর্তমানে তা প্রায় ২০ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

তাঁতিদের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাস আগে যে কাপড় তৈরিতে ৩০০ টাকা খরচ হতো, এখন একই কাপড় উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা। অর্থাৎ কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে কাপড়ের দাম পাচ্ছেন না তাঁতিরা।

বিজ্ঞাপন

গত এক বছরে শাহজাদপুরের স্থানীয় হাটে তাঁতের কাপড়ের বেচাকেনা ও পাইকারি বিক্রি প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে। এতে তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের বাজারে অবৈধভাবে আসা সস্তা ও নিম্নমানের ভারতীয় কাপড় এবং দেশীয় পাওয়ারলুমের কম দামের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুম তাঁত। ফলে হাতে তৈরি কাপড়ের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একসময় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর ভারতে বিপুল পরিমাণ শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছা রপ্তানি হতো। কিন্তু দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে রপ্তানি অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এতে তাঁত ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও গভীর হয়েছে।

লোকসানের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁত মালিকদের অনেকেই পুঁজি হারাচ্ছেন। পর্যাপ্ত সরকারি ঋণ ও স্বল্প সুদের প্রণোদনা না পাওয়ায় নতুন করে সুতা কেনার সামর্থ্যও হারাচ্ছেন অনেকে। ফলে উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কাপড় ব্যবসায়ীদের মতে, আধুনিক ডিজাইন ও নতুন বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রয়োজন টেক্সটাইল ডিজাইনার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। এ ধরনের সহায়তার অভাবে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে শাহজাদপুর তাঁত সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD