স্কুলে থাকতেই পাইলট, ২০ বছরেই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু

মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাইলটের লাইসেন্স অর্জন করেছিলেন নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগুয়েরাস। তখনো স্কুলের গণ্ডি পেরোননি, এমনকি গাড়ি চালানোর লাইসেন্সও ছিল না তার। আকাশে উড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই তরুণী মাত্র ২০ বছর বয়সেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় লিয়ারজেট বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সহকারী পাইলট হিসেবে নিহত হন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল লিয়ারজেট-৬০ উড়োজাহাজটি। পরে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে এটি বিধ্বস্ত হয়। আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে। প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে উড়োজাহাজে থাকা নয়জনের সবাই নিহত হন।
নাথালিয়ার মা ক্যামিলা ও সৎবাবা থিয়াগো কোরতেলেতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে ২১ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল তার। অল্প বয়সেই প্রায় ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন নাথালিয়া। বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র নয় মাস আগে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দুর্ঘটনার আগমুহূর্তেও উড়োজাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নাথালিয়া। তার সৎবাবা জানান, দুর্ঘটনার মাত্র ১০ মিনিট আগে প্রেমিক জাস্টিনকে বার্তা পাঠান তিনি। সেখানে উড়োজাহাজে ঝাঁকুনি এবং বরফ জমার সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন।
মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত মা ক্যামিলা বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, সে তার স্বপ্ন পূরণ করুক। কিন্তু জানতাম, একদিন সেই স্বপ্নই তাকে আমার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে। আমি সব সময় জানতাম, কোনো একদিন বিমানই তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেবে।’
ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে বেড়ে ওঠা নাথালিয়ার ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল। তার বাবা ২০১৮ সালে শখের বশে বিমান চালানো শেখেন। বাবার ছোট বিমানে চড়েই উড়োজাহাজ চালানোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় মেয়ের।
বিজ্ঞাপন
২০২০ সালে পাইলট প্রশিক্ষণ শুরু করেন নাথালিয়া। মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে অর্জন করেন ব্যক্তিগত পাইলটের লাইসেন্স। তখনো তার গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষ যখন বলে আমি গাড়ি চালাতে পারি না, তখন আমি বলি, কিন্তু আমি তো বিমান চালাতে পারি।’
পরে ওয়েস্ট বোকা র্যাটন হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্লোরিডার একটি ফ্লাইট স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর সুযোগ পান বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে কাজ করার। ভবিষ্যতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন নাথালিয়া।
মা ক্যামিলা জানান, মেয়ের দক্ষতা ও পেশার প্রতি ভালোবাসা দেখে অনেকেই মুগ্ধ হতেন। বিমান চালানোই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। মেয়ের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া দেখে খুশি ছিলেন তিনি। তবে এত অল্প বয়সে তাকে হারাতে হবে, তা কখনো কল্পনা করেননি।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট








