কামানের গোলা নয়, মদের বোতল! চীনের ব্যাখ্যায় বিতর্ক

পাপুয়া নিউগিনিতে একটি নির্মাণস্থল থেকে ৩২ কেজি ওজনের সন্দেহভাজন কামানের গোলা উদ্ধারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বস্তুটি চীনের তৈরি সামরিক অস্ত্র বলে দাবি উঠলেও বেইজিংয়ের বক্তব্য, এটি আসলে কামানের গোলার আদলে তৈরি একটি মদের বোতল। চীনের এমন ব্যাখ্যা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাপুয়া নিউগিনিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানায়, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি বিপজ্জনক নয়। তবে দূতাবাসের এই দাবি সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে বস্তুটির ওজন ও আকৃতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী পোর্ট মোরসবির একটি নির্মাণাধীন স্থানে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি কনটেইনারের ভেতর থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিকভাবে বস্তুটি সচল বিস্ফোরক কি না, তা খতিয়ে দেখছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। সে সময় দেশটির পুলিশ কমিশনার ডেভিড ম্যানিং ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক আবিষ্কার’ বলে বর্ণনা করেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বলা হয়, বস্তুটি চীনের তৈরি টাইপ-৫৯ মডেলের ১৩০ মিলিমিটার আর্টিলারি শেল। এতে রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
এর আগে বস্তুটি নিছক নকল বা নিষ্ক্রিয় গোলা বলে ধারণা নাকচ করেছিল পাপুয়া নিউগিনির পুলিশ। দেশটির সংবাদমাধ্যম পোস্ট কুরিয়ার এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে চীনা দূতাবাসের দাবি, চীন থেকে এ ধরনের অবৈধ সামরিক অস্ত্র পাপুয়া নিউগিনিতে পাচার করা প্রায় অসম্ভব। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্যতম কঠোর আইন ও বিধিবিধান রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে দূতাবাসের এই ব্যাখ্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল দেখতে কেমন হতে পারে? আরেকজনের বক্তব্য, বস্তুটিতে মদের বোতল হিসেবে চেনার মতো কোনো লেবেলও দেখা যায়নি। ফলে এটি আসলে সামরিক গোলা, নাকি মদের বোতল—তা নিয়ে রহস্য এখনো কাটেনি।








