Logo

নির্বাচনে বড় পরাজয়ের অপমানে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:০৫
নির্বাচনে বড় পরাজয়ের অপমানে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই বিজয়ের পর আগামী ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটের দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস সময় পাচ্ছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন ট্রাম্প—এমন আশঙ্কা করছেন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকেরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ, নির্বাচনী পরাজয়কে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে নিয়ে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ইরান যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের পর এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কোনো কক্ষেই নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছেন না।

১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪। আরও দুটি আসনে দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন নিশ্চিত করেছে দলটি। যদিও কয়েকটি আসনের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ফলাফলকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, নির্বাচনী প্রচারে বিরোধী দল তাদের চেয়ে ভালো করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিশ্রুতি ছিল, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হবে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ আইন প্রণয়ন এবং সরকারি ব্যয় অনুমোদনের দায়িত্ব পালন করে। কোনো আইন কার্যকর করতে হলে সাধারণত দুই কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ট্রাম্পের প্রশাসনিক নিয়োগের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ফেডারেল বিচারক নিয়োগ আটকে দিতে পারবে তারা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ পাবে দলটি। এসব কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করার ক্ষমতা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। পরবর্তী সময়ে সিনেটে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে পদ থেকে অপসারণের সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ ও ২০২১ সালে দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে উভয়বারই সিনেটে তিনি দায়মুক্তি পান।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা বাড়লেও প্রেসিডেন্টের ভেটো তাদের জন্য বড় বাধা হতে পারে। ট্রাম্প আগেই ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘আমি সবকিছুতে ভেটো দেব।’

প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের এ ক্ষেত্রে কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থনও আদায় করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক লরা ব্লেসিং মনে করেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাবে তদন্তের ক্ষেত্রে।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, সময় ব্যয় এবং সংবাদপত্রের শিরোনামের বিচারে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাবে তদন্তের ক্ষেত্রেই। সিনেটের স্থায়ী তদন্তবিষয়ক উপকমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন।

নির্বাচনের আগে সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্লুমেনথাল জানিয়েছিলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে কংগ্রেসের তদন্ত ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তাঁরা। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করবো।

বিজ্ঞাপন

হোয়াইট হাউসের অনুমতি ছাড়াই কংগ্রেস এসব তদন্ত পরিচালনা করতে পারে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত দুই বছরে ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্রিপ্টোকারেন্সি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভবিষ্যৎভিত্তিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে। চলতি বছর প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদও আনুমানিক ২২০ কোটি ডলার বেড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য তদন্তের প্রস্তুতি হিসেবে ডেমোক্র্যাট সিনেটররা বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের জন্য হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণে ব্যক্তিগত অনুদান সংগ্রহ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্ত পরিচালনার অভিযোগও এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আদালতে সমন জারির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এতে তদন্তের কার্যক্রম কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

লরা ব্লেসিংয়ের মতে, ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা তদন্তে হাজির না হলেও সরকারি কর্মকর্তা এবং তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব। এসব অনুসন্ধানে প্রশাসন ও ট্রাম্পের সহযোগীদের সম্ভাব্য অনিয়মের তথ্য সামনে আসতে পারে।

তবে অপরাধের প্রমাণ মিললেও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত নয়। ডেমোক্র্যাটরা সম্ভাব্য অপরাধের তথ্য প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠাতে পারবে। কিন্তু ট্রাম্পের অধীন বিচার বিভাগ সেসব অভিযোগে মামলা করবে কি না, তা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে কতটা সময় ব্যয় করা উচিত এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কতটা মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস মনে করেন, তদন্তের ক্ষেত্রে সতর্ক ও কৌশলী হওয়া জরুরি। তদন্ত যেন সাধারণ মার্কিন পরিবারের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

আগামী ৩ জানুয়ারি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার কথা। এর আগের দুই মাস ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকেরা।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি আশঙ্কা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন ট্রাম্প।

তাঁর মতে, অপমান বা পরাজয়ের মুখে ট্রাম্পের আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার প্রবণতা রয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হতে পারে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করা। এ লক্ষ্যে ইরান যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারে দলটি।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে সামরিক অভিযানের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করতে পারবে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে হলে নতুন করে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

ত্রিতা পারসির মতে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সময়সীমা সীমিত করার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ, নতুন করে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ অন্য খাত থেকে সহজে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তবে বাজেটসংক্রান্ত কোনো উদ্যোগেও ট্রাম্পের ভেটো বড় বাধা হতে পারে। পাশাপাশি সামরিক ব্যয় কমানোর প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কতটা ঐকমত্য তৈরি হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

লরা ব্লেসিংয়ের মতে, মার্কিন সেনাদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিকভাবেই সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করতে অনীহা দেখিয়ে এসেছে।

তবে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধ করা ছাড়াও যুদ্ধের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির পথ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের তদন্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরান যুদ্ধের সামরিক অভিযান আইন মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারে।

স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইটের নীতিবিশ্লেষক ডেভিড জানোভস্কি বলেন, কঠোর নজরদারি সরাসরি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে না পারলেও যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হতে পারেন।

যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ত্রিতা পারসির সতর্কবার্তা, ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা না করলে ডেমোক্র্যাটরাও রাজনৈতিক দায় এড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, এটি তখন আর শুধু ট্রাম্পের যুদ্ধ থাকবে না। তারাও এর অংশীদার হয়ে যাবে, কারণ যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা নিষ্ক্রিয় থাকবে।

আরও পড়ুন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ ছিল নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর এ সংকট মোকাবিলা করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে।

সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের সহপ্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ ডিন বেকারের মতে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে ইরান যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে ইরান। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সার পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে।

বেকারের মতে, যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সিনেটে তদন্ত শুরু হলে সামরিক অভিযান বন্ধের চাপ বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি তেলের দাম কমার পাশাপাশি পরিবারের ব্যয়ের চাপও কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ২০২৫ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের বাড়তি ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিককে স্বাস্থ্যবিমার জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটরা ওই ভর্তুকি পুনর্বহাল এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইডে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিলের চেষ্টা করতে পারে।

বেকারের মতে, সরকারি ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় এসব উদ্যোগে সম্মত হতে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। জনসমর্থন থাকায় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর প্রস্তাবে ট্রাম্পের ভেটো দেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগও নিতে পারে দলটি। তবে এ জন্য প্রতিনিধি পরিষদের সমর্থনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের অনুমোদন অথবা তাঁর ভেটো বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত ভোট প্রয়োজন হবে।

শুল্ক প্রত্যাহার করা সম্ভব হলেও বাজারে পণ্যের দাম দ্রুত কমবে না বলে মনে করেন গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভের নীতিবিষয়ক প্রধান অ্যালেক্স জ্যাকুয়েজ। তাঁর ভাষ্য, পণ্যের দাম রকেটের মতো দ্রুত বাড়ে, কিন্তু পালকের মতো ধীরে কমে।

এদিকে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়াও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব কাজে লাগিয়ে নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া ও বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে তারা।

জ্যাকুয়েজের মতে, কংগ্রেসের কমিটির নেতৃত্ব হাতে থাকলে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের তলব করার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারলে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সব মিলিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত, বাজেট নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধের চাপ তাঁর প্রশাসনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ও দুই দলের রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: আল-জাজিরা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD