হরমুজ প্রণালিতে তিন তেল ট্যাঙ্কারে আগুন, বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইরানের দাবি, দেশটির অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচলের সময় ট্যাঙ্কারগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অনুমোদিত পথ ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে জাহাজগুলোকে।
অন্যদিকে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলে মার্কিন সহায়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
রোববার আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘আজ ভোরের দিকে অনুমোদনহীন তিনটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির অবৈধ চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।’’
বিজ্ঞাপন
তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কারগুলোর নাম কিংবা সেগুলো কোন দেশের, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ইরানের সামরিক বাহিনীর এই শাখা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও রোববার জানিয়েছে, এর আগের দিন হরমুজ প্রণালিতে ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কার এবং এর নাবিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শনিবার অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরও একটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগরে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি নৌযান থেকে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে আইআরজিসির দেওয়া তথ্য এবং ইউকেএমটিওর উল্লেখ করা অগ্নিকাণ্ড ও হামলার ঘটনাগুলো একই কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজে আগুন লাগার খবর দিয়ে আসছে তেহরান।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড গত মাসে দাবি করেছিল, গ্রীষ্মের পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে সম্প্রতি এই জলপথ থেকে সব ধরনের মাইন সরিয়ে ফেলার দাবিও করেছে সংস্থাটি।
সূত্র: এএফপি








