পুরুষদের অতিরিক্ত চুল পড়ার নেপথ্যে যে ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাস

বর্তমান সময়ে চুল পড়া পুরুষদের জন্য উদ্বেগজনক সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের চুল পাতলা হয়ে যায় বা টাক পড়তে শুরু করে। যদিও বংশগত কারণ বা হরমোনগত পরিবর্তন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে বাস্তবতা হলো— দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাস চুল পড়ার গতি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অনেক সময় অজান্তেই জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও চুলের যত্নে অবহেলার কারণে চুলের ক্ষতি হয়। নিচে পুরুষদের অতিরিক্ত চুল পড়ার জন্য দায়ী এমন পাঁচটি সাধারণ অভ্যাস তুলে ধরা হলো—
১. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও অস্থির জীবনযাপন: অতিরিক্ত মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রকে ব্যাহত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় টেলোজেন এফ্লুভিয়াম, যেখানে চুলের গোড়া আগেভাগেই বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চুল ঝরে পড়ে।
আরও পড়ুন: যেভাবে মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়বেন
বিজ্ঞাপন
অফিসের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা— এসবের সম্মিলিত প্রভাব চুলের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
২. অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি : চুলের মূল উপাদান প্রোটিন। পাশাপাশি আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন, ভিটামিন বি, ডি ও ই— এসব পুষ্টি উপাদান চুল মজবুত রাখতে অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়া, শাকসবজি ও ফলমূল এড়িয়ে চলা কিংবা দীর্ঘদিন ডায়েটিং করলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর ফলে চুল পাতলা হয়ে যায়, ভেঙে পড়ে এবং অকাল চুল পড়া শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
৩. অতিরিক্ত হেয়ার স্টাইলিং ও কেমিক্যাল পণ্যের ব্যবহার : অনেক পুরুষই প্রতিদিন জেল, ওয়াক্স, স্প্রে কিংবা শক্ত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। এসব পণ্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে মাথার ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হয়।
এ ছাড়া ঘন ঘন হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনার ব্যবহারের ফলে চুল শুষ্ক, ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত চুল পড়ার কারণ হয়।
বিজ্ঞাপন
৪. ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস: ধূমপান শুধু ফুসফুসের জন্য নয়, চুলের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না।
অন্যদিকে অতিরিক্ত মদ্যপান শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস থাকলে চুল পড়া অনিবার্য হয়ে ওঠে।
৫. ভুল পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নেওয়া: খুব ঘন ঘন চুল ধোয়া, শক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, ভেজা চুলে আঁচড়ানো বা তোয়ালে দিয়ে জোরে চুল মুছলে চুল সহজেই ভেঙে যায়। অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যাল্প পরিষ্কার না রাখার কারণে খুশকি, ফাঙ্গাল সংক্রমণ ও চুল পড়ার সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
চুলের ধরন অনুযায়ী সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার ও কোমল যত্ন না নিলে চুলের ক্ষতি দ্রুত হয়।
শেষ কথা: সব ধরনের চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও, এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করলে চুল পড়ার হার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। মানসিক চাপ কমানো, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ এবং নিয়মিত ও সঠিক চুলের যত্ন— এই চারটি বিষয়ই সুস্থ ও ঘন চুল ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।








