যেসব খাবার অ্যাজমার সমস্যা বাড়াতে পারে, জেনে নিন

অ্যাজমায় আক্রান্ত অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, খাবারের সঙ্গে কি এই রোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস অ্যাজমার সরাসরি কারণ না হলেও কিছু খাবার এ রোগের উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার এমন কিছু খাবারও রয়েছে, যা ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন আর কোনটি বেশি খাবেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
খাবার কি অ্যাজমার উপসর্গ বাড়াতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এতে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যদিও কোনো খাবার সরাসরি অ্যাজমা সৃষ্টি করে না, তবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে সালফাইটযুক্ত খাবার, যেমন শুকনো ফল, মদ্যজাত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত আলু অ্যাজমা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে সংরক্ষণকারী উপাদানযুক্ত মাংস, যেমন হট ডগ, টিনজাত মাংস, হ্যাম, পেপারোনি ও সসেজের মতো খাবারও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া যাদের নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, যেমন দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, ঝিনুকজাতীয় সামুদ্রিক খাবার বা এ ধরনের অন্য কোনো খাদ্য, তাদের সেসব খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব খাবার অ্যালার্জির পাশাপাশি অ্যাজমার উপসর্গও বাড়িয়ে দিতে পারে।
নিজের নির্দিষ্ট ট্রিগারগুলো শনাক্ত করা এবং এড়িয়ে চলা গেলে তা হাঁপানির প্রকোপ অনেকটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিউট্রিশন রিভিউস-এ প্রকাশিত ২০২০ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে, গবেষকরা দেখেছেন কীভাবে খাদ্যাভ্যাস হাঁপানির ঝুঁকি এবং উপসর্গকে প্রভাবিত করে।
বিজ্ঞাপন
প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারের ওপর নির্ভরশীল খাদ্যাভ্যাস প্রদাহ, জারণ এবং অন্ত্রের জীবাণুর উপর প্রভাব ফেলে হাঁপানি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে এবং উপসর্গের উন্নতি ঘটাতে পারে। পর্যালোচনাটিতে দেখা গেছে যে, বেশি করে ফল ও শাক-সবজি খাওয়া, প্রাণিজ পণ্য কমানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করা- এই সবই হাঁপানির সঙ্গে জড়িত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
ফুসফুস ভালো রাখতে যেসব খাবার খাবেন
বিজ্ঞাপন
ফুসফুস সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের বেরি, কমলা, পালং শাক, ব্রোকলি ও গাজর প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ ও অন্যান্য খাবার, যেমন স্যামন, সার্ডিন, আখরোট এবং তিসির বীজ নিয়মিত খাওয়া উপকারী। পাশাপাশি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, বিভিন্ন ধরনের শস্যদানা, ডাল এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ শাকসবজি ও কুমড়ার বীজও ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং অ্যাজমার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।








