ধূমপান না করেও ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত ১৯ শতাংশ নারী

ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী। যুক্তরাষ্ট্রে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের ১৯ শতাংশের ধূমপানের ইতিহাস নেই। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৯ শতাংশ। সম্প্রতি এক গবেষণায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
গবেষকদের ধারণা, ফলমূল, শাকসবজি ও পূর্ণশস্যে থাকা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের হওয়ায় এখনই কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত কমবয়সী ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাস সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে ধূমপান করেন না, এমন নারীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার নরিস ক্যানসার সেন্টারের চিকিৎসক জর্জ নিয়েভা বলেন, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণকারীরা সাধারণ মার্কিন খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের তুলনায় খাবারের মাধ্যমে বেশি কীটনাশকের সংস্পর্শে আসতে পারেন। ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার ও ফুসফুসের ক্যানসারের মধ্যে কীটনাশক কোনো সংযোগ তৈরি করছে কি না, সেটিই গবেষকদের উদ্বেগের বিষয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, কিছু কীটনাশক শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। ধূমপান করেন না, এমন নারীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের যে ধরন বেশি দেখা যায়, তাতে ইস্ট্রোজেন হরমোনের গ্রাহক থাকার বিষয়টিও এ আলোচনায় এসেছে।
কীটনাশক কি ফুসফুসের ক্যানসারের কারণ?
বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকার সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ডিডিটি উল্লেখযোগ্য। তবে নতুন গবেষণায় খাবারের মধ্যে থাকা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সরাসরি পরীক্ষা করা হয়নি। বরং গড় সংস্পর্শের মাত্রার ভিত্তিতে সম্ভাব্য পরিমাণ অনুমান করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রাশ এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মেরি জো ফিডলারের মতে, ধূমপানের ইতিহাস নেই, এমন ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসারের পেছনে কীটনাশকের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই গবেষণা থেকে কীটনাশক ও ক্যানসারের মধ্যে সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রমাণিত হয় না।
অন্যদিকে, আগের কিছু গবেষণায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষিকাজ ও খাদ্য উৎপাদনে নিয়োজিত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কীটনাশকের সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
জৈব খাবার কি নিরাপদ বিকল্প?
বিজ্ঞাপন
কীটনাশকের সংস্পর্শ কমাতে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে এসব খাবার তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং জৈব খাবার খেলেই ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসারের পেছনে জিনগত পরিবর্তন, পরোক্ষ ধূমপান, রেডন গ্যাস ও বায়ুদূষণের মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসক ডেভিড জে পার্কের মতে, জৈব খাবার কেনা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জৈব খাবার কেনা সম্ভব না হলেও নিয়মিত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া বন্ধ করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া এবং লাল মাংসের পরিবর্তে মাছ ও মুরগির মতো খাবার বেছে নেওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞাপন
তথ্য সূত্র : ভেরিওয়েল মাইন্ড








