Logo

গণভোটে পৃথক প্রশ্নের সুযোগ নেই, হ্যাঁ–না বান্ডেলেই হবে ভোট: সিইসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩
16Shares
গণভোটে পৃথক প্রশ্নের সুযোগ নেই, হ্যাঁ–না বান্ডেলেই হবে ভোট: সিইসি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি যাচাই করতে মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা মূল্যায়ন শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ ভোট মহড়া পরিদর্শন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গণভোট, সময় ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

সিইসি জানান, এবারের গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—এই দুই অপশনেই। পৃথকভাবে প্রশ্নে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো বান্ডেল আকারে একত্রে রাখা হয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শন শেষে সিইসি বলেন, একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ বাস্তবে কেমন হওয়া উচিত, আজ তারই পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে। ভোটারদের লাইনে দাঁড়ানো, পোলিং অফিসারদের দায়িত্ব পালনের ধরন, প্রিসাইডিং অফিসারের ভূমিকা এবং সাংবাদিক–পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রের ভেতরে সম্ভাব্য চাপ—সবই প্র্যাকটিক্যালভাবে পরীক্ষা করেছে ইসি।

তিনি জানান, অনেক ভোটারই গত ১৫ বছরে সরাসরি ভোটদানে অংশ নিতে পারেননি। তাই মক ভোটিং নতুন ও প্রথমবারের ভোটারদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট যুক্ত হওয়ায় সময় ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়েছে—এটি মাথায় রেখেই সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।

সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চললেও এবার একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ৪২ হাজার ৫০০ কেন্দ্র যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সিইসি জানান, বুথ বা কেন্দ্র বাড়ানোর বিষয়টি আজকের রিয়েল-টাইম মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় বেশি লাগলে বুথ বা কেন্দ্র বাড়ানো হবে। প্রয়োজনই আমাদের প্রথম বিবেচনা—ব্যয় নয়।

বুথ বাড়াতে হলে অতিরিক্ত জনবল, ব্যালট বাক্স, লজিস্টিকসহ ব্যয় বাড়বে—তবে সেগুলো কমিশন বিবেচনা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভিড় এড়াতে সাংবাদিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন করে দ্রুত বাইরে যাওয়ার অনুরোধ করেন সিইসি। তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই সংবাদকর্মীদের কাজের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে নয়; বরং কেন্দ্রে অযথা ভিড় তৈরি হলে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে—তা রোধ করতেই এ অনুরোধ।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক কিছু সহিংসতা বা অপরাধের প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না; বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থাই ইসির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে আমরাও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছি। এখন পরিস্থিতি অনেক স্থিতিশীল।

বিজ্ঞাপন

গণভোটের প্রচারণার বিষয়ে সিইসি জানান, সংশ্লিষ্ট আইন পাস হওয়ার পরই ইসিকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ওপর প্রচারণার বড় অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে সিইসি বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তফসিল দেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি। প্রস্তুতির প্রায় সবটাই সম্পন্ন। ইনশাআল্লাহ, জাতিকে একটি সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৫

Developed by: AB Infotech LTD