Logo

দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, সতর্ক করল বিশেষজ্ঞরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৭:৩২
79Shares
দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, সতর্ক করল বিশেষজ্ঞরা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অবস্থিত ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এই সতর্কতার কথা জানানো হয়।

সেমিনারে অংশ নেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি।

বক্তারা উল্লেখ করেন, গত ১০০ বছরে দেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর কম্পনের হার আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা মেগাথার্স্ট ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০–১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি। তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট—ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয়—সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং–আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট দেশের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, সংকীর্ণ সড়ক ও দুর্বল নির্মাণ মান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সময়মতো সঠিক প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা তৈরি করা গেলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষতি ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট, কার্যকর জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা ও প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

জাপানের দুই ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা জাপানের ভূমিকম্প-পরবর্তী অভিজ্ঞতা ও নিরাপদ অবকাঠামো নকশা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।

তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভূমিকম্প-সহনশীল দেশে পরিণত করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার ফলে ঝুঁকি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও দুর্বল ভবন কাঠামো বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বিপর্যয় বাড়াতে পারে।

তিনি তিনটি স্তম্ভ—রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—মজবুত করার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন, রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান, স্থপতি আরিফুল ইসলাম, স্থপতি রফিক আজম সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এখনই উপযুক্ত প্রস্তুতি নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৫

Developed by: AB Infotech LTD