পূর্বাচলে পুলিশের নতুন মেগা প্রকল্প, সৃষ্টি হচ্ছে ৬ হাজার পদ

রাজধানীর অদূরে গড়ে উঠতে চলা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ঘিরে দেশের পুলিশের ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পুরো এলাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনা হবে এবং সেখানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৪১টি পুলিশ বক্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এই বিশাল কাঠামো পরিচালনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ, যা একক কোনো প্রকল্পে পুলিশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পূর্বাচল নতুন শহরকে শুরু থেকেই নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এখানে ভবিষ্যতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করবেন। তাই এলাকা নিরাপদ রাখতে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পুলিশ কাঠামো অপরিহার্য।
বিজ্ঞাপন
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচলে ভবিষ্যতে সরকারি আবাসন, কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক হাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নগরী গড়ে উঠবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা এই বিশাল প্রকল্পের জন্য অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়া এবং ভবিষ্যৎ সন্ত্রাস ঝুঁকি মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নতুন শহরে গড়ে তোলা হবে— একটি অপরাধ বিভাগ, একটি গোয়েন্দা বিভাগ, একটি ট্রাফিক বিভাগ, একটি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, একটি পরিবহন বিভাগ, একটি পুলিশ লাইনস, একটি এমআইএস বা আইটি ইউনিট, দুইটি অপরাধ জোন, চারটি ট্রাফিক জোন, চারটি থানা, ছয়টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, ডিএমপির সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও সরঞ্জামও সংযুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আরও জানান, ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি প্রশাসনিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় আছে। অনুমোদন মিললে পর্যায়ক্রমে পদগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্বাচল নতুন শহরের জন্য এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো ভবিষ্যতে রাজধানীর নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।








