রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা খাতের আওতায় আসা ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স দ্রুত গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে রেমিট্যান্স এলে তা একই কর্মদিবসে এবং ব্যাংকিং সময়ের পর এলে পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশনাগুলো কার্যকর হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোকে এসব নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে রেমিট্যান্সের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তা জানাতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত লেনদেন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আধুনিক, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় মৌলিক তথ্য পাওয়া গেলে কিছু কাগজপত্র বা যাচাই প্রক্রিয়া পরবর্তীতে সম্পন্ন করলেও আগে গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট যাচাই বা পরবর্তী যাচাই সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে অর্থ জমার আগে যাচাই শেষ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে।
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত করতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) অথবা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করে গ্রাহককে অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুত অর্থ জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে লেনদেনের স্বচ্ছতা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে শুরু করে গ্রাহকের হিসাবে চূড়ান্তভাবে অর্থ জমা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজেকশন রেফারেন্স (ইউইটিআর) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নত করা হলে ভবিষ্যতে ফরম ‘সি’ এবং ফরম ‘সি (আইসিটি)’ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এতে রেমিট্যান্স গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনায় আস্থা বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।








