স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঠছাড়া করতে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হচ্ছে

গোপালগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইসিতে শুনানির পর তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে আপত্তি তোলা, কাগজপত্র নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি এবং শুনানিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং ভোটের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দুপুরে ইসির শুনানিতে আশরাফুল আলমের পক্ষে অংশ নেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, আশরাফুল আলম ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্বতন্ত্র বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। এর আগে নৌকার বিপক্ষে জগ মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে কোনোভাবেই তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া জন্য পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মনোনয়নপত্রের একটি স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নারী ভোটারই স্বাক্ষর করেছেন এবং শুনানিতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। তবু এক পর্যায়ে দাবি করা হয়, ওই স্বাক্ষর তিনি করেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী সবার কাগজপত্র ঠিক থাকলেও শুধুমাত্র এক প্রার্থীর ক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়েছে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী শুনানিতে এসে তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, ভোট একটি আমানত। স্বতন্ত্র বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ধরনের চেষ্টা স্পষ্ট ষড়যন্ত্র এবং নির্বাচনী প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’। ভোটের মাধ্যমে জনগণই শেষ সিদ্ধান্ত নেবে, কোনো দল ভিন্নভাবে ফলাফল প্রভাবিত করতে পারবে না।
বিজ্ঞাপন
আশরাফুল আলমের রাজনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি অতীতে মেয়র ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন এবং নৌকার বিপক্ষে জগ মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ফ্যাসিস্ট আমলেও তিনি তিনবার চেয়ারম্যান ও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, এবারও তাকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করবে কে জিতবে, কে হারবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।








