Logo

৩৬টি অস্ত্রোপচার ও ৬ মাসের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল আবিদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪:২৯
৩৬টি অস্ত্রোপচার ও ৬ মাসের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল আবিদ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় দগ্ধ হয়ে দীর্ঘ ছয় মাস হাসপাতালে কাটানোর পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম। টানা চিকিৎসা ও ৩৬টি সফল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পার করেছে ১২ বছর বয়সী এই শিশু, সে বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবিদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত বছরের ২১ জুলাই দুর্ঘটনার দিন থেকেই আবিদ তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিল। ওই ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৫ জন রোগীর মধ্যে আবিদই ছিল সর্বশেষ চিকিৎসাধীন রোগী।

পরিচালক জানান, আবিদুর রহিমের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। দগ্ধের হার তুলনামূলক কম মনে হলেও ইনহ্যালেশন বার্ন, মুখমণ্ডল ও দুই হাত পোড়া থাকায় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। দুর্ঘটনার সময় সে শ্রেণিকক্ষের সামনের দিকে অবস্থান করছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে এবং পরবর্তী ছয় দিন হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে রাখা হয়। পরে ১৭২ দিন কেবিনে চিকিৎসা চলে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, দুই হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় ফ্যাসেকটমি করতে হয়েছে—চামড়া কেটে চাপ মুক্ত করে হাত দুটো রক্ষা করা হয়। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ৩৫ বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ছিল ছোট অপারেশন এবং ১০ বার স্কিন গ্রাফটিং করা হয়। মুখ ও হাতের ফ্ল্যাপ কভারেজও দিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন হাসপাতালের বেডে থাকায় সূর্যালোক ও স্বাভাবিক চলাচল থেকে বঞ্চিত ছিল আবিদ, ফলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও দেখা দেয়। এখন তাকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হবে, যা বাসায় বসেই দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, “আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। ছয় মাস ধরে যারা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন—চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা—সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেছেন। তখন আমাদের ডিউটির কোনো নির্দিষ্ট সময় ছিল না।” তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্রই বহন করেছে, ফলে ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর্থিক অনুদান নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এত বড় দুর্ঘটনায় সাংবাদিকদের সহযোগিতাও তারা পেয়েছেন। পাশাপাশি স্বীকার করেন, এত বড় চিকিৎসা কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক ও উন্নত ওষুধ–ড্রেসিং ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চান তারা। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

পরিচালক জানান, যারা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, তাদের অন্তত দুই বছর ফলোআপ চিকিৎসা প্রয়োজন হবে। এ জন্য একটি বিশেষ সেল খোলা হয়েছে, যাতে কোনো রোগী চিকিৎসা–সংক্রান্ত সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ছয় মাস পর ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি—এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজকে ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন লাগছে, সে বলেছে—আজ আমার ঈদের মতো লাগছে।” চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসার কারণে পরিবারকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান। তার ভাষায়, ঘোষিত ক্ষতিপূরণ এখনো পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হবে।

এদিকে, হাসপাতাল ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়ে আবিদ। “আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি”—এই কথা বলেই সে কান্নায় জড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৬ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নেন।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD