Logo

নিরাপদ আকাশপথ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে বেবিচকের সেমিনার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০:৪৭
নিরাপদ আকাশপথ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে বেবিচকের সেমিনার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশপথকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত রাখতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর সদস্যপদ অর্জনের ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অগ্রযাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়।

“গ্রোথ, অ্যাচিভমেন্টস, ফিউচার নিডস অ্যান্ড আইকাও এনজিএপি–বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ” শীর্ষক এই সেমিনারে বেবিচকের দীর্ঘ পথচলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সেমিনারের প্রধান বক্তা বেবিচকের মেম্বার (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বেবিচকের ৫৩ বছরের যাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিরাপত্তা ও আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন। তিনি জানান, দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যাত্রীসেবা, অপারেশনাল দক্ষতা ও নিরাপত্তার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পকে দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে এবং বাংলাদেশ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রন ও টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, “দ্য লিগ্যাসি অব সেফ স্কাই” কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং বেবিচকের সব পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল দর্শন। ভবিষ্যতে গ্রিন এভিয়েশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীল বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে সেমিনারে গুরুত্ব পায় নেক্সট জেনারেশন অব এভিয়েশন প্রফেশনালস (এনজিএপি) উদ্যোগ। সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবলই এভিয়েশন খাতের মূল শক্তি। তিনি জানান, ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া কার্যকর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, আইকাও অডিটের সুপারিশ এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনাল চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাজাতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন একাডেমির আইকাও ট্রেইনেয়ার প্লাস গোল্ড মেম্বারশিপ দেশের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি এয়ারলাইন্স খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্যে এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ড. ইমরান আসিফ বলেন, দেশের এয়ারলাইন্স শিল্প একটি পরিবর্তনশীল সময় অতিক্রম করছে। যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপের কারণে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ট্রেনিং ও ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক বলেন, এনজিএপি উদ্যোগের মাধ্যমে পাইলট, কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট অপারেশন সংশ্লিষ্ট জনবলকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তার মতে, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই এভিয়েশন শিল্প গড়ে তুলতে পারে।

সেমিনারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা, হশাআবির নির্বাহী পরিচালক এবং বেবিচকের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD