ঢাকায় ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র ৬৯৫, বিশৃঙ্খলা হলেই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের হিসাব বলছে, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বিদ্যমান।
বিজ্ঞাপন
শুধু ঢাকায় ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১ হাজার ১৩৩টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম বা সহিংসতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা ভিডিও করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের বডি-ওয়্যার্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, ফলে অনিয়মকারীরা সহজে পার পাবে না।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনাও আলাদা করা হয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবেন ৩ জন পুলিশ সদস্য, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ১ জন। এর পাশাপাশি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সও থাকবে প্রস্তুত।
বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। অনেক ভোটার অভিযোগ করেছিলেন, তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিজ্ঞাপন
ইতোমধ্যে লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে থানার ওসিদেরও বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব, আচরণবিধি ও পেশাগত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা এলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন পরিবেশ ভালো থাকলে ভোট দেবেন, আবার কেউ আশঙ্কা করছেন শেষ মুহূর্তে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
একজন ভোটার বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ভোটকেন্দ্রে যাব।’ অন্যদিকে আরেকজন জানান, ‘এবার নিরাপত্তা দেখে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি, ভোট দিতে যাবো।’
বিজ্ঞাপন
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তবে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, গুজব ছড়ানো বা সংঘবদ্ধ হামলার মতো ঘটনা যেকোনো সময় পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। কেন্দ্র দখল বা প্রভাব বিস্তারের মানসিকতাও ফের দেখা দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে চলমান অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে বাহিনী।
রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রের অবস্থান ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে আলাদা নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়েও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
শুধু পুলিশ নয়, নির্বাচনী নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিতভাবে মাঠে থাকবে একাধিক ইউনিট।
বিজ্ঞাপন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন কিনা—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।








