সংবিধানের একক ক্ষমতার ফাঁদ ভাঙতেই গণভোট: আলী রীয়াজ

দেশের সংবিধানে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একক ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন এবং গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণভোটবিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তার মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় একজন ব্যক্তির একচ্ছত্র কর্তৃত্বের যুগ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশের ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় দুর্বলতা। এই কাঠামোগত ত্রুটি দূর করতেই জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করতে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে এই সনদের খসড়া প্রণয়ন করেছে। এতে সংবিধানের একাধিক ধারা সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হবে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের বিধানের অপব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তিকেও নির্বাহী সিদ্ধান্তে ক্ষমা করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা অতীতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কাগজে-কলমে এটি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা হলেও বাস্তবে তা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এই পরিস্থিতি ঠেকাতে জুলাই সনদে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়া কাউকে ক্ষমা না করার বিধান যুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন। এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে গণভোটে জনগণের সমর্থন জরুরি বলে মত দেন আলী রীয়াজ।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। অতীতের কয়েকটি নির্বাচন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একক সিদ্ধান্তে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলেও জানান তিনি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে এসব সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, এই সনদ বাস্তবায়িত হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেই। বরং পরবর্তী সরকারই এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেবে। দীর্ঘ নয় মাস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ তৈরি করা হয়েছে।
সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ বা রাষ্ট্রধর্ম সংক্রান্ত বিষয় বাদ দেওয়া হবে— এমন গুজবেরও জবাব দেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত ৮৪টি পরিবর্তনের কোথাও এসব বিষয় বাদ দেওয়ার কথা নেই। এ ধরনের প্রচার বিভ্রান্তিকর।
বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইমাম সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








