‘জামায়াতের বিভ্রান্তি থেকে জাতিকে সতর্ক করা আলেমদের ধর্মীয় দায়িত্ব’

মওদুদীবাদী চিন্তাধারায় পরিচালিত জামায়াতের সঙ্গে দেশের আলেম সমাজের বিরোধ কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ আদর্শিক ও আকিদাগত— এমন মন্তব্য করেছেন শীর্ষস্থানীয় ইসলামি ব্যক্তিত্বরা। তাদের ভাষ্য, জামায়াতের ভ্রান্ত বিশ্বাস ও মতাদর্শ সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানদের সচেতন করা আলেমদের ধর্মীয় দায়িত্ব। ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই আলেমরা বক্তব্য, গবেষণা ও লেখনীর মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ‘৪৭-এর দেশভাগ থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান: আলেম সমাজের ভূমিকা ও আগামীর করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইসলামী আকিদা সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মুফতি রিজওয়ান রফীকি।
অনুষ্ঠানে অনুসন্ধানী লেখক ও গবেষক শাকের হোসাইন শিবলি রচিত ‘প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষীর বয়ানে জামায়াত-শিবির-মওদুদীবাদের মুখোশ উন্মোচন’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটিতে জামায়াত-শিবিরের মতাদর্শিক বিভ্রান্তি, পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশের আলেমদের সাক্ষাৎকার এবং নির্যাতনের শিকার আলেমদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সভায় বিভিন্ন ইসলামি ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের নামে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছে জামায়াত-শিবির। একসময় ‘দ্বীন প্রতিষ্ঠা’র স্লোগান দিলেও বর্তমানে তারা নিজেদের ঘোষিত আদর্শ থেকেও সরে এসেছে। দলীয় প্রতীক ও বক্তব্যে তার প্রতিফলন স্পষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, জামায়াত প্রকৃত ইসলামের আদর্শ নয়, বরং মওদুদীবাদী চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি নবীদের নিষ্পাপতা ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদার মতো মৌলিক বিশ্বাসে প্রশ্ন তোলে, যা মূলধারার ইসলামি আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে বিশ্বের স্বীকৃত আলেম সমাজ কখনো তাদের প্রকৃত ইসলামি দল হিসেবে গ্রহণ করেনি।
ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইসলামের বিধানসমূহের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তাদের দাবি, মসজিদ ও মাহফিলে এ বিষয়ে কথা বললে অনেক ইমাম ও বক্তাকে হেনস্তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ধর্মের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আলোচকরা বলেন, নির্বাচনের সময় ইসলামী ঐক্যের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত বিভাজন সৃষ্টি করাই জামায়াতের পুরনো কৌশল। অতীতের মতো এবারও তারা বিভিন্ন ইসলামি দলকে একত্রিত করার আশ্বাস দিয়ে পরে ঐক্য ভেঙে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের মসজিদ, মাদরাসা, দাওয়াত-তাবলিগ ও তাসাউফভিত্তিক কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সর্বশেষে, ইসলামের নামে বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারকারীদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে আগামী নির্বাচনে এমন শক্তিকে সমর্থন না দেওয়ার পরামর্শ দেন বক্তারা।








