শেষ মুহূর্তে বিদেশি চুক্তির ঝড়, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতেই বিদেশি দেশগুলোর সঙ্গে বড় চুক্তি স্বাক্ষরের সরকারি তড়িঘড়ি জনমনে উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তি এবং চীন ও জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে সরকারি উদ্যোগ চলছে, যা বিশেষভাবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনেক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, একটি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘমেয়াদী নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
অধিকাংশের মতে, নির্বাচিত সরকারের জন্য এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রাখাই যুক্তিসঙ্গত হতো। বিশেষ করে এসব চুক্তির শর্তাবলী ও অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর নাম অজ্ঞাত থাকায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছে অনেকেই।
বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য ও কূটনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বাংলাদেশকে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই তারিখে চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনের অতি সন্নিকটে এমন দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবশালী চুক্তিতে তড়িঘড়ি করা বিতর্ক তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দলগুলোও সরকারের এই পদক্ষেপকে কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে জাতীয় স্বার্থে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করতে চাইলে অসুবিধা হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ভেসে যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে চুক্তির অপ্রকাশ্য শর্তাবলীর কারণে। কোনো গণশুনানি বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার অভাবে এসব চুক্তিতে জনমনে সন্দেহ জন্মেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তিগুলো ‘জাতীয় স্বার্থ’রক্ষা করবে, তবে বিস্তারিত শর্তাবলী এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অংশীদার এবং জনগণ অন্তত মূল শর্তগুলো জানতে পারলে ভাল হতো। কারণ এই চুক্তির বাস্তবায়ন ভবিষ্যতের সরকারের দায়িত্বে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের অল্পদিন আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের সীমারেখা অতিক্রম করেছে বলেও দেখা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা করা হচ্ছে, এই তড়িঘড়ি কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল দাঁড়াবে।








