Logo

ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে জড়িতরা যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:৩১
ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তিতে জড়িতরা যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারে
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ | ফাইল ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন—সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে এবং বন্দর শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এমন কোনো এখতিয়ার নেই যে তারা এমন একটি চুক্তি করবে, যার ফলে বাংলাদেশ আগামী ৩০ থেকে ৬০ বছরের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগতভাবে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়বে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জোর করে এবং তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে, যা জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত—অন্তর্বর্তী সরকার কেন এবং কীসের বিনিময়ে এ ধরনের জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে, সে বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। একই সঙ্গে এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিলে বন্দর থেকে সরকারের আয় ও মাশুল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পণ্যের ওপর মাশুল বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়ের ওপর। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি ও রপ্তানি এই বন্দর নির্ভর। এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে বাংলাদেশ কার্যত একটি বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে কেন সরকার এই চুক্তি করতে এতটা তাড়াহুড়া করছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা যখন একযোগে এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তখন কার স্বার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—সে প্রশ্নের জবাব সরকারের কাছ থেকে জাতি জানতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীনসহ অন্যান্য বক্তারা। তারা সবাই এই চুক্তিকে অগণতান্ত্রিক ও জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বন্দর শ্রমিকদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD