হাদির স্ত্রী বসে আছেন, ভুলেও ফুলের টোকা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি জুমার

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। শুরু থেকেই অবস্থানে অংশ নেন ওসমান হাদির সহধর্মিনী রাবেয়া ইসলাম শম্পা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখানে যেন ভুলেও ফুলের টোকা দেওয়ার সাহস কেউ না করে।
বিজ্ঞাপন
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের উদ্দেশ্যে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর সাধারণ জনগণকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রাত ৮টার দিকে যমুনার সামনে অবস্থান অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাবেয়া ইসলাম শম্পা।
এ সময় নিজের ফেসবুক পোস্টে রাবেয়া ইসলাম শম্পা লেখেন, আমার বা আমাদের তো চাওয়া বেশি কিছু না। জাস্ট জাতিসংঘের তত্বাবধানে হাদি হত্যার বিচার। রাষ্ট্র, শহীদের সহধর্মিনী আজকে তার বিচারের সঠিক তদন্তের জন্য রাজপথে। সেই বিকাল থেকে অবস্থান করছে। এখন কি তার দুধের বাচ্চাটাকেও রাজপথে নামতে হবে!
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাসায় দুধের শিশু রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী। পর্দা রক্ষার স্বার্থে তিনি মুখের সামনে ফেস্টুন ধরে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাতিমা তাসনিম জুমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরও কঠোর ভাষায় অবস্থান জানান। তিনি লেখেন, মিডিয়া ব্ল্যাক আউট করেন, লাইট অফ কইরা দেন, মাইরা ফালান। এইটাই আমাদের লড়াই। কিন্তু ওসমান হাদির স্ত্রী এখানে বসে আছেন। কেউ যদি ভুলেও এখানে ফুলের টোকা দেওয়ারও চেষ্টা করেন, জাহান্নাম নামাইয়া আনব প্রত্যেকের জীবনে। প্রত্যেকে মানে প্রত্যেকে। কে কবে কী কী অন্যায় করেছেন মনে করতে থাকেন।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা যমুনার সামনে অবস্থান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।








