Logo

১৯৯১ সালের নির্বাচন কেন বারবার আলোচনায়, কী হয়েছিল সেই ভোটে?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯:৩৪
১৯৯১ সালের নির্বাচন কেন বারবার আলোচনায়, কী হয়েছিল সেই ভোটে?
ছবি: সংগৃহীত

ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে—এমন বিশ্বাস রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল প্রবল। সেই প্রত্যাশা ভেঙে দিয়ে বিএনপির জয় শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।

বিজ্ঞাপন

ওই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয় পায়, আওয়ামী লীগ পায় ৮৪টি আসন। জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে জামায়াতের সমর্থনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই সঙ্গে কার্যত দ্বিদলীয় রাজনীতির সূচনা এবং সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব—এই ধারণার বাস্তব প্রয়োগও প্রথমবারের মতো দেখা যায় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। সে সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ বিশ্বাস করতেন, সংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় যাবে।

বিজ্ঞাপন

বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ সময়ে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছেড়ে যাওয়ায় সাংগঠনিকভাবে দলটি তখন দুর্বল অবস্থায় ছিল। বিপরীতে আওয়ামী লীগ ছিল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। তবুও নির্বাচনের ফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথ পাল্টে দেয়।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, সে সময় বিএনপি নেতারাও নিশ্চিত ছিলেন না যে তারা ক্ষমতায় যেতে পারবেন। তার ভাষায়, বিএনপি অনেক জায়গায় প্রার্থীই ঠিকমতো দিতে পারেনি। এসব কারণেই সাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আওয়ামী লীগই জিতবে।

তবে নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যিনি সে সময় দলটির ১৪০টি আসনের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তার মতে, মাঠপর্যায়ে কাজ করা নেতারা ‘ভালো বাতাস’ টের পাচ্ছিলেন। দুই নেত্রীর ভাষণের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটের সমীকরণ পাল্টে যেতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেখ হাসিনার ভাষণে সামরিক শাসনামল ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা থাকলেও তার বক্তব্যের ভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস অনেকের কাছে নেতিবাচক হিসেবে ধরা পড়ে। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার ভাষণে ছিল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি, যা ভোটারদের আকৃষ্ট করে।

সেই সময় সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়গুলোতেও নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান, আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং ভাষাগত দম্ভ—এই সবকিছু মিলেই বিএনপির বিস্ময়কর সাফল্যের পথ তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

৩৫ বছর পর আবারও এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, ক্ষমতার পালাবদল এবং দলগুলোর অবস্থান নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই ১৯৯১ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টানছেন। তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD