মব জাস্টিসের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশে মব জাস্টিসের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়েই দায়িত্ব নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। জনগণের সমস্যা সমাধান এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, গণতন্ত্রই সরকারের অগ্রযাত্রার প্রধান ভিত্তি। সব কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূল মানুষের সঙ্গে যুক্ত— ফলে এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করা হবে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর— এমন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি অতটা খারাপ নয়। তার দাবি, আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং ব্যাংকিং খাতও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
গত দেড় বছরে মব জাস্টিসের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে— এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশ একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে— ঝড়, বিপ্লব, বিদ্রোহ ও গণঅভ্যুত্থানের মতো ঘটনাপ্রবাহের পর সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে— এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে এখন একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে— এটিকে তিনি একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
‘আওয়ামী লীগবিহীন’ নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে এ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই এটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন আছে কি না— এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এর প্রয়োজন নেই। তার মতে, বিশেষ একটি সময়ে দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সেই কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে নতুন সরকার গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও তৃণমূল উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগোতে চায় বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।








