Logo

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির উদ্বেগ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৭:২০
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হিসেবে ব্যাখ্যা করে পরিবহনমন্ত্রী একটি গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি করছেন—এমন অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এ ধরনের দুর্নীতিপ্রবণ প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীকে দলীয় শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রীর দেওয়া চাঁদাবাজির ব্যাখ্যা সরকারের ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের যে ঘোষণা দিয়েছেন এবং ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রতিশ্রুতি এসেছে—তার অল্প সময়ের মধ্যেই এমন বক্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক। তার ভাষায়, পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের “ক্যানসার” হিসেবে পরিচিত চাঁদাবাজিকে সুরক্ষার ইঙ্গিত দিয়ে দেওয়া এই মন্তব্য সরকারপ্রধানের অবস্থানকেই বিব্রতকরভাবে খাটো করেছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক ও পরিবহন খাতে প্রচলিত চাঁদা সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন ও সমর্থন করা মানে অনৈতিক ও যোগসাজশভিত্তিক দুর্নীতিকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের ওপর, যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ অবৈধ অর্থের বোঝা বহন করেন। মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে বৈধতার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এতে খাতটির দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য টিকিয়ে রাখার ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে স্বীকৃতি দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন, সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে একই যুক্তির অপপ্রয়োগ কীভাবে ঠেকানো হবে? টিআইবির মতে, সরকার যদি দুর্নীতি প্রতিরোধে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রাখতে চায়, তবে দ্রুততম সময়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্তৃত্ববাদ পতনের পর দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দলবাজি ও দখলবাজির যে বহুমাত্রিক বিস্তার দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে এ ধরনের অবস্থান বিচ্ছিন্ন নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ধরনের যুক্তিতে সে সময়ের সরকারের সড়কমন্ত্রীও সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যার বিরুদ্ধে টিআইবি জোরালো প্রতিবাদ জানায়। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে কি না—এ শঙ্কা থেকে সংস্থাটি হতাশা প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা পূরণে দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী প্রবণতা ঠেকাতে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথায় জনআস্থায় ভাটা পড়বে এবং এমন শক্তি সুবিধা পাবে, যাদের আদর্শ বাংলাদেশের মৌলিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের এখনই উপযুক্ত সময়।

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD