Logo

বর্ণমালা আর ফুলের সৌরভে একুশ : শহীদ মিনারে মানুষের জনসমুদ্র

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৩
বর্ণমালা আর ফুলের সৌরভে একুশ : শহীদ মিনারে মানুষের জনসমুদ্র
ছবি: সংগৃহীত

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভোরের আলো ফুটতেই ফুলে ফুলে সাদা হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রভাত থেকেই রাজধানীতে নামে মানুষের ঢল। হাতে রক্তলাল পলাশ, ডালিম ও নানান ফুলের তোড়া নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ঢল নামে প্রাঙ্গণে।

ভোর হওয়ার আগেই আজিমপুর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হাজারো মানুষ খালি পায়ে, বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে সমবেত হন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’—গানের সুরে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ সারি। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদিচি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উপস্থিত হন। শিশুদের হাত ধরে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শোনাতে দেখা যায় অভিভাবকদের। কোলের শিশু থেকে হুইলচেয়ারে আসা প্রবীণ—সবার গন্তব্য ছিল শহীদ বেদি।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার পথচলা শুরু হয়েছিল। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল।

বিজ্ঞাপন

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার জানান, ভাষা আন্দোলন শুধু ইতিহাসের অধ্যায় নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই চেতনাকে নতুন করে অনুভব করা যায়।

বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য মাহদি হাসান বলেন, মানুষের আবেগ ও শৃঙ্খলা সত্যিই প্রশংসনীয়। সবাই নিয়ম মেনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, যা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোট, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ফুল দেন। তিন বাহিনীর প্রধান, বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের কর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। ‘জুলাই ঐক্য’ ও ‘জুলাই মঞ্চ’-এর ব্যানারে তরুণদের অংশগ্রহণ এবারের একুশকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বেড়ে যায়। শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ফুল হাতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় মানুষকে। বর্ণমালা খচিত পোশাক, হাতে জাতীয় পতাকা আর চোখেমুখে গভীর আবেগ—সব মিলিয়ে একুশের প্রভাত রূপ নেয় জাতীয় শোক, গৌরব ও ঐক্যের অনন্য প্রতীকে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD