সর্বক্ষেত্রে বাংলা ব্যবহারে উদ্যোগ বাড়াতে হবে: ঢাবি উপাচার্য

বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হলেও প্রশাসন, শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে এখনো সর্বত্র এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত হয়নি—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান। তার মতে, সর্বস্তরে বাংলা চালুর লক্ষ্যে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আরও জোরদার করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আজ শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাসহ বিশ্বের সব মাতৃভাষার প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করছি। মাতৃভাষার বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত ও মর্যাদাপ্রাপ্ত। তবে বাস্তবতা হলো—রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সর্বত্র বাংলা ব্যবহারের যে প্রত্যাশা, তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রশাসনিক কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষা, আদালতের ভাষা কিংবা দাপ্তরিক চর্চায় বাংলা আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।
নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ভাষার চর্চা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার বিষয়। সর্বস্তরে বাংলা চালু করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা কেবল নির্দেশনা দিয়ে নয়, নিয়মিত চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকারি পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেই প্রয়াস আরও সম্প্রসারণ দরকার বলে তিনি মনে করেন।
ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ১৯৫২ সালের শহীদদের আত্মদান শুধু ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার মর্যাদা রক্ষার ঐতিহাসিক লড়াই। সেই চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আয়োজিত একুশের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালন করে থাকে। এ বছর অনুষ্ঠানটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি কেবল ফুলেল শ্রদ্ধায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাংলা ভাষাসহ দেশের সব মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা ও প্রশাসনিক চর্চায় কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।








