একুশের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অবস্থান জরুরি

নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একুশের চেতনাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল সমঅধিকার, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দুর্নীতি সেই চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। দুর্নীতির কারণে সমাজে বৈষম্য বাড়ে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। ফলে একুশের আদর্শ বাস্তবায়নে দুর্নীতিকে প্রতিহত করা অপরিহার্য।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মান্ধতা দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকারের পথে বড় বাধা। নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি—সমাজের এসব প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা একুশের চেতনার অংশ। তাদের অধিকার খর্ব করে এমন শক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
টিআইবির নাম বাংলায় না হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিআইবি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশ, যার নামকরণ বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য কখনোই অন্য ভাষাকে অবমূল্যায়ন করা ছিল না। বরং সব ভাষার মর্যাদা রক্ষাই ছিল এর মূল শিক্ষা।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য কেবল বাংলা ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো—প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মাতৃভাষা চর্চার সমান অধিকার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশেও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে, সেগুলোর সংরক্ষণ ও বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভাষার অধিকার, সমতা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে সমাজে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তার মতে, দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা এই পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায়।
তিনি মনে করেন, একুশের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তা বাস্তব নীতি, আইন এবং সামাজিক আচরণে প্রতিফলিত হওয়াই হবে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।








