লাল-সবুজে সেজে মায়ের হাত ধরে শহীদ মিনারে মার্জিয়া

কপালে লাল-সবুজের পতাকা, গালে শহীদ মিনারের রঙিন প্রতিচ্ছবি আর ছোট্ট হাতে বসন্তের ফুল—এভাবেই মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মায়ের হাত ধরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজির হয় শিশু মার্জিয়া।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে মা আদিবা তার কন্যাকে নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আসেন। ভোর থেকেই সেখানে ছিল মানুষের ঢল। ফুলের তোড়া হাতে নানা বয়সী মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহীদ বেদির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই ভিড়ের মাঝেই দেখা যায় ছোট্ট মার্জিয়াকে—উচ্ছ্বসিত, কৌতূহলী আর আবেগে ভরা।
মা আদিবা জানান, টেলিভিশনে শহীদ মিনারের সরাসরি সম্প্রচার দেখে আগের রাতেই সেখানে যাওয়ার জন্য জেদ ধরেছিল মার্জিয়া। তাকে বুঝিয়ে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়। এরপর খুব সকালে ফুল নিয়ে তারা শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এখানে এসে মেয়ের আনন্দ দেখেই তার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। মার্জিয়া বাংলা বর্ণমালা শিখেছে বেশ আগেই। মাতৃভাষার গুরুত্ব ও একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস সম্পর্কে তাকে ছোটবেলা থেকেই জানানো হচ্ছে।
শহীদ মিনার চত্বরে এদিন ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ। কেউ নীরবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের গল্প শোনাচ্ছেন, আবার কেউ স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। শিশুদের সরব উপস্থিতি পুরো পরিবেশে এনে দিয়েছে এক বর্ণিল আবহ।
বিজ্ঞাপন
দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, কূটনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি জাতি শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করে। ভাষার মর্যাদা রক্ষার সেই আত্মত্যাগের ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে মার্জিয়ার মতো শিশুদের অংশগ্রহণ যেন নতুন আশার বার্তা দেয়। একুশের চেতনা যে শুধু স্মরণে নয়, শিক্ষায় ও অনুশীলনে বেঁচে থাকে—তারই প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে শহীদ মিনারে ছোট্ট এই পদচারণা।








