ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে ভিনদেশিরা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যেমন নেমেছিল দেশবাসীর ঢল, তেমনি অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও। ফুল হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা স্মরণ করেছেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শহীদ মিনার এলাকায় দেখা যায় মানুষের দীর্ঘ সারি। সাদা-কালো পোশাক, বুকে কালো ব্যাজ আর হাতে পুষ্পস্তবক—এভাবেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল অর্পণ করেন ভিনদেশি নাগরিকরাও।
শহীদ মিনার চত্বরে কথা হয় কানাডা থেকে আগত জেসির সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাষার জন্য জীবন বিসর্জনের ইতিহাস খুব বেশি দেশে নেই। এখানে এসে মানুষের গভীর আবেগ ও সম্মানবোধ দেখে তিনি মুগ্ধ। তার ভাষ্য, একটি জাতি কীভাবে নিজেদের মাতৃভাষাকে ভালোবাসে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই দিনটি।
বিজ্ঞাপন
ইতালির নাগরিক জোসেফ জানান, এমন একটি ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। ভাষার প্রতি মানুষের যে আবেগ ও একাত্মতা তিনি দেখেছেন, তা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছেন—এ দৃশ্যকে তিনি আবেগময় ও অনন্য বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদ মিনারে দেশি-বিদেশি মানুষের উপস্থিতি একুশের চেতনাকে আরও বিস্তৃত করেছে। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম যে কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার প্রতীক—শহীদ মিনারে বিদেশিদের অংশগ্রহণ যেন সেই বার্তাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।








