মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মশালা

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহীদ সকলদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি সকল দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ করেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তার সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে।
কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল জলিল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ১৫টি মূল বিষয়ের ওপর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ কর্মপরিকল্পনায় নারীর ক্ষমতায়ণ, শূন্য পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, প্রকল্প ব্যয়ের রিয়েল-টাইম মূল্যায়নসহ স্বচ্ছ হিসাব সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিজ্ঞাপন
মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, মার্চ থেকে আগস্টে প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—৩৫টি নতুন অভয়াশ্রম স্থাপন, ৪০ হাজার নতুন জেলেকে খাদ্য সহায়তায় অন্তর্ভুক্ত করা, ১,৩৭৫ জনকে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনা, ৮,০০৯ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন।
সেই সঙ্গে টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে—তেলাপিয়া মাছের রেনু উৎপাদন ৭.৮৩ লক্ষ কেজি, দেশীয় পোনা ৮১৫.৮ কেজি, কার্প জাতীয় মাছের পোনা ১,২৩,৩৮৪ কেজি, ২৯টি উপজেলায় অনলাইন ফিশ মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু, ৩–৩.৫ হাজার কোটি টাকার মৎস্য ও মাছজাত পণ্য রপ্তানি।
বিজ্ঞাপন
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ড. মোহাম্মদ বজলুর রহমান জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— ৩ কোটি ডোজ টিকা মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে গবাদিপশু বিতরণ (১০০ গরু, ১৮,৬০০ ছাগল, ৪২৬ ভেড়া, ২,৫০০ হাঁস-মুরগি), উন্নত জাতের সিমেন সরবরাহ (প্রতিমাসে ৫ লক্ষ ডোজ), চরাঞ্চলের ১,৫০০ ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ, মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রতি উপজেলায় ৩০০ সেবাগ্রহীতা সেবা, ১,৫০০ খামারির জন্য প্রাথমিক বীমা পাইলট।
দিনব্যাপী কর্মশালায় নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ১৫টি পয়েন্টের ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








