Logo

‘জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার অমর একুশে বইমেলা’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬:৪৯
‘জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার অমর একুশে বইমেলা’
ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজন মানুষের মধ্যে বইপড়ার আগ্রহ বাড়াবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা অমর একুশে বইমেলা এখন জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অন্যতম প্রতীক। ভাষার মাসের শুরুতেই মেলা আয়োজনের কথা থাকলেও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে এবার মেলা শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এটি মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনের স্মারক। প্রতি বছর মেলার পরিধি বাড়লেও গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রকাশনা ও পাঠাভ্যাস একই অনুপাতে বাড়ছে কি না—তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র উক্তি উদ্ধৃত করেন—“বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে—এমন তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অনেক তরুণ বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যদিও অনলাইনে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে থাকার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পাঠাভ্যাস সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের এক জরিপে ১০২ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ায় শীর্ষে রয়েছে, আর তালিকার নিচে রয়েছে আফগানিস্তান। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। দেশে গড়ে একজন মানুষ বছরে তিনটি বই পড়েন এবং বই পড়ায় সময় ব্যয় করেন প্রায় ৬২ ঘণ্টা।

তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা যেন কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গঠনের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে—এটাই প্রত্যাশা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পালিত একুশে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে এ আয়োজনকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিশ্বসাহিত্য, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বিকল্প নেই। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বক্তৃতায় তিনি বলেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বইমেলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠুক—এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এসব কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে বলে মত দেন।

তিনি বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা দেবে।

বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। দেশের সাহিত্য ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ জোরদার করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সবশেষে তিনি অমর একুশে বইমেলা ও একুশে অনুষ্ঠানমালা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD