Logo

দুই লিটার তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অতিষ্ঠ বাইকাররা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মার্চ, ২০২৬, ১৫:১৬
দুই লিটার তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অতিষ্ঠ বাইকাররা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। অনেককে মাত্র দুই লিটার তেল কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তেল কেনায় সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের পর থেকেই পাম্পগুলোতে এমন চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, গত রাতে কল্যাণপুরের খালেক স্টেশন সার্ভিস পাম্পে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি পেট্রোল পাননি। বাধ্য হয়ে আজ সকালে আবার এসে লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাত্র দুই লিটার অকটেন পেয়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তিনি। তবে দুই লিটার তেল কিনতে গিয়ে আড়াই ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, রাজধানীর অনেক ছোট পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে বড় পাম্পগুলোর সামনে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্পের আশপাশে এক কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি চান তিনি।

পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক বাইকার ও প্রাইভেটকার চালকও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করতে না পারায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তেল কেনার সীমা নির্ধারণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা দিচ্ছে।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আসাদগেটের তালুকদার পাম্প, সোনার বাংলা, কল্যাণপুরের খালেক পাম্পসহ তিনটি পাম্প, টেকনিক্যাল ও মাজার রোডের দুটি, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং তেজগাঁও এলাকার আরও কয়েকটি পাম্পসহ মোট ১১টি পাম্পে তেল নিতে আসা অনেক যানবাহনকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আসাদগেটের তালুকদার পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফুল ইসলাম নামে এক বাইকার বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের মধ্যে তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলেই পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রাইভেটকার চালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তেলের লাইনে জায়গা না পেয়ে অনেকেই এখন গ্যাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু যেসব যানবাহন আগে তেলে চলত, সেগুলোও গ্যাস নিতে আসায় সেখানে চাপ বেড়ে গেছে।

শ্যামলীর সাহিল ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রোল পাম্পও রয়েছে। তবে সেখানে তেল নিতে আসা অনেক যানবাহনকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পাম্পটির এক কর্মচারী মেহেদি জানান, গতকাল বিকেল পর্যন্ত তেল বিক্রি করা হয়েছে। এরপর থেকে আর তেল সরবরাহ নেই। তবুও অনেক চালক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, ফলে গ্যাস নিতে আসা গাড়িগুলোকেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

খালেক পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াছিন নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সরকার বলছে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। কিন্তু যদি সত্যিই সংকট না থাকে, তাহলে কেন তেল কেনায় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই বাড়তি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পাম্প কর্তৃপক্ষও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খালেক স্টেশনের কর্মচারী সুমন বলেন, তেলের গাড়ি থেকে সরবরাহ আসছে ঠিকই, কিন্তু যে পরিমাণ চাহিদা তৈরি হয়েছে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, এই চাপ সামাল দিতে আরও অন্তত ২০টি স্টেশন প্রয়োজন। কিন্তু সীমিত সংখ্যক পাম্প থাকায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং একসঙ্গে সব গ্রাহককে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আশপাশের সড়কেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও চালকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোর পরিস্থিতিও নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে তাদের।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, পাম্প মালিক, শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। কোথাও কোথাও পাম্পকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট লাইন তৈরি করা হচ্ছে এবং বাইকারদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে প্রধান সড়কের পাশে থাকা ফিলিং স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে যানজট আরও বাড়তে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD