সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ দেখছে না ইসি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা তীব্র হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সিটিগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। ঢাকার দুই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর, আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি। এর ফলে স্থানীয় সরকারকে পুনর্গঠনের সময় এসেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপাতত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখা যায়নি। তবে নির্বাচন আয়োজন ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য কমিশন সভা করবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা আগে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করব। এরপর ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বর্তমানে কোনো চ্যালেঞ্জ আমরা লক্ষ্য করছি না।
সুশাসনের জন্য নাগরিকে (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধি দিয়ে স্থানীয় সরকার গঠন করা অপরিহার্য। দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারলে স্থানীয় সেবা ও প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশাসক নিয়োগের পরিবর্তে নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা উত্তম। নির্বাচিত সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে পারবেন। প্রশাসক থাকলে তা সীমিত সময়ের জন্য কার্যকর হয়, ফলে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক সপ্তাহের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার এই সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করছে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন হলে দেশের তিনটি মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি কর্পোরেশনের জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে পুনরায় নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন।








