রমজানকে কেউ কেউ মুনাফার মাসে পরিণত করেন: প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র রমজান মাস ত্যাগ, সংযম, রহমত ও বরকতের সময় হলেও এ সময়কে অনেকে ব্যক্তিগত লাভের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিম শিশুদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মাহে রমজানের ১৭তম দিনে অনুষ্ঠিত এই ইফতারে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এতিম শিশুরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান এমন একটি মাস যখন মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, দানশীলতা ও আত্মসংযমের চর্চা হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই সময়েই কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিংবা অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।
তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের কষ্ট বাড়ায় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত।
বিজ্ঞাপন
তারেক রহমান আরও বলেন, ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী অতীতের প্রায় প্রতিটি রমজানেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিয়মিত ইফতার আয়োজন করা হতো। বিশেষ করে আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে সাধারণত রমজানের শুরুতেই এমন আয়োজন করা হয়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে।
তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার এবারের রমজানে ব্যয়সংকোচনের নীতি অনুসরণ করছে। এ কারণে এ বছর মোট দুইটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো চলতি রমজানে সরকারের শেষ ইফতার আয়োজন।
ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া এতিম শিশুদের বিশেষ অতিথি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম এতিমদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআন ও হাদিসে এতিমদের হক আদায়ের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সব এতিম শিশুকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব না হলেও এই আয়োজনের একটি প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে এতিমদের দায়িত্ব নেওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি হলো যাকাত। দেশের অনেক বিত্তবান ব্যক্তি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যাকাত দেন, আবার কেউ কেউ সরকারের যাকাত বোর্ডের মাধ্যমেও তা পরিশোধ করেন।
বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। তবে এই বিপুল অর্থ সুপরিকল্পিতভাবে বণ্টন না হওয়ায় দারিদ্র্য দূরীকরণে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী এমনভাবে যাকাত বণ্টনের কথা বলা হয়েছে যাতে একজন ব্যক্তি একবার সহায়তা পাওয়ার পর পরবর্তী বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল না থাকেন। পরিকল্পিতভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে এটি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করে যদি প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া যায়, তাহলে অনেক পরিবারই পরের বছর আর সহায়তার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
তার মতে, লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কেবল যাকাতের অর্থ দিয়েই দেশের দারিদ্র্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।








