Logo

১০টি জাহাজে দেশে আসছে পৌনে ৪ লাখ টন জ্বালানি তেল ও গ্যাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মার্চ, ২০২৬, ১৩:২১
১০টি জাহাজে দেশে আসছে পৌনে ৪ লাখ টন জ্বালানি তেল ও গ্যাস
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে তেল ও গ্যাসবাহী একাধিক জাহাজ। মোট ১০টি জাহাজে করে প্রায় পৌনে চার লাখ টন তেল-গ্যাস বাংলাদেশে আসছে। এর মধ্যে আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে রবিবার (৮ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর করেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও দুটি জাহাজ বর্তমানে পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ দুটি সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বন্দরে পৌঁছানো এবং পথে থাকা ১০টি জাহাজে প্রায় পৌনে চার লাখ টন তেল-গ্যাস রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আগেই পারস্য উপসাগরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এবং পথে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং দুটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এছাড়া ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য বহন করছে আরও চারটি জাহাজ।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব—এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেওয়া হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রণালির পাশের দেশ ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথে পরিবহন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে এই প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশে জাহাজ আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার (৬ মার্চ) জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার ‘লুসাইল’ ও বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আসে এসব জাহাজ।

এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিব্রেথা’ নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থান করছে। জাহাজটিতে ইতোমধ্যে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। ভবিষ্যতের চালানগুলো নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার খোলাবাজার থেকে বেশি দামে দুটি এলএনজি জাহাজ কিনেছে বলে জানা গেছে। তবে সেগুলো এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশে এলপিজির বড় একটি অংশ আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। সংঘাত শুরুর আগেই ওমান উপসাগর থেকে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা ওমানের সোহার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজ যুদ্ধ শুরুর আগেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ওই জাহাজে ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি। ফলে দুটি জাহাজে মোট এলপিজির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪৮৮ টনে।

বিজ্ঞাপন

দেশে ডিজেলের মজুত কমতে থাকায় বন্দরের পথে রয়েছে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের প্রায় ৩১ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি জাহাজ। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এটি আগামী ১২ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট নিয়ে পৌঁছেছে ‘হুয়া সুন’ নামের একটি জাহাজ। কনডেনসেট থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও এলপিজি উৎপাদন করা হয়। এর বাইরে সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর গত ৪ মার্চ এলপিজি ও ডিজেল নিয়ে আসা দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি তেল-গ্যাস খালাস করে শুক্রবার বন্দর ছেড়েছে। জাহাজ দুটি হলো ‘ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন’ ও ‘পল’।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD