সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চ

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হতেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল থেকেই টার্মিনালে ভিড় করছেন যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে।
বিজ্ঞাপন
সকালে সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, পন্টুন ও টার্মিনালজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন যাত্রীরা। কারও হাতে ট্রাভেল ব্যাগ, কেউ আবার মাথায় মালপত্র নিয়ে দ্রুত লঞ্চের দিকে ছুটছেন। শিশুদের নিয়ে আগেভাগেই লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছেন অনেক পরিবার।
বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোর পন্টুনে তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা গেছে। লঞ্চের সাইরেন, মাইকিং ও যাত্রীদের কোলাহলে পুরো টার্মিনাল এলাকায় ঈদযাত্রার চেনা ব্যস্ততা ফিরে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পন্টুনগুলো কিছুটা উঁচু অবস্থানে থাকায় যাত্রীদের ওঠানামায় সুবিধা হচ্ছে।
বরিশালগামী এক যাত্রী জানান, ছুটি শুরু হওয়ায় সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছেন। সকালবেলায় কিছুটা স্বস্তিতে লঞ্চে ওঠা গেলেও দুপুরের পর ভিড় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
ভোলাগামী এক নারী যাত্রী বলেন, শিশুদের নিয়ে ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই রওনা হয়েছেন। পরে ভিড় বাড়লে চলাচল আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। এ চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষ সার্ভিসও চালু করা হবে।
ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন জানান, আজ থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ও রাতে চাপ আরও বাড়বে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সদরঘাট ও আশপাশের নদীপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। র্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ডিএমপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞাপন
একটি লঞ্চের পরিচালক জানান, ঈদযাত্রা সামনে রেখে লঞ্চের ফিটনেস, লাইফ জ্যাকেট ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সন্ধ্যার পর সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের কারণে টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে সদরঘাটসহ বিভিন্ন যাতায়াতকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমার চক্র ঠেকাতে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে।








