‘ফ্যামিলি কার্ড’ এ বছরের নারী দিবসের চেতনার যথার্থ প্রতিফলন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীরা কেবল দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নন; তারা পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শক্তি। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যা এ বছরের নারী দিবসের চেতনার যথার্থ প্রতিফলন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনি বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, জনসেবা এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্র—সবখানেই তাদের অবদান স্পষ্ট। কোনো জাতি টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না, যদি সেখানে নারীরা পূর্ণ অংশগ্রহণ, মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায়।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বৃহত্তর জাতীয় ভাবনার মধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির গুরুত্ব নিহিত রয়েছে। পরিবারের মা বা নারী প্রধানের নামে কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে নারীর ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দেশের বহু পরিবারে নারীরাই সংকট মোকাবিলা করে পরিবারকে একত্রে রাখেন, সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করেন এবং সন্তান ও বয়স্ক সদস্যদের যত্ন নেন।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কষ্টে থাকা অনেক নারীর জন্য সরাসরি সহায়তা আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে। একইভাবে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই সহায়তা কঠিন সময়ে স্থিতিশীলতা এনে দিতে পারে। এতে শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তারেক রহমান বলেন, সহায়তা যখন সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছায়, তখন তা কেবল একজন নারীকে নয়—পুরো পরিবারকে শক্তিশালী করে। এভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দারিদ্র্যের চাপ কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল চেতনা নারীর অধিকার, ন্যায়বিচার এবং বাস্তব সহায়তার কথা তুলে ধরে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগ সেই চেতনাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রয়াস, যা পরিবার ও জাতীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীর অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে সংকীর্ণভাবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল প্রতিনিধিত্বের বিষয় নয়; বরং মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ভারসাম্য এবং জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। একজন শক্তিশালী নারী মানেই একটি শক্তিশালী পরিবার, শক্তিশালী পরিবার গড়ে তোলে শক্তিশালী সমাজ, আর শক্তিশালী সমাজই তৈরি করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন, মর্যাদার সঙ্গে চলতে পারবেন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবদান রাখতে পারবেন।
বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নারীর অধিকার আরও অর্থবহ হবে, ন্যায়বিচার দৃশ্যমান হবে এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে নারী ও মেয়েদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।








