ফুটবল মাঠ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার আসনে হাফিজ উদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা এবং ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবময় অতীত—সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক জীবনের অধিকারী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবার দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন।
বিজ্ঞাপন
একসময় মাঠ কাঁপানো ফুটবলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রায় ৩৩ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মন্ত্রিসভায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
স্পিকার হওয়ার পথে তার দীর্ঘ পথচলা ছিল নানা অভিজ্ঞতায় ভরপুর। পাকিস্তান আমলে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক ছিলেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে তার সাফল্যের মধ্যে অন্যতম ছিল ১৯৬৪ সাল থেকে পরপর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হওয়া।
বিজ্ঞাপন
রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহের পেছনে পারিবারিক প্রভাবও ছিল। তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যুক্ত হন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টি-র প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘পান’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রার্থীদের পরাজিত করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই তিনি বিজয়ী হন।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তিনি ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে একই সরকারের মন্ত্রিসভায় ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত পাটমন্ত্রী এবং পরে ২০০৩ সালের ২২ মে থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির রাজনীতিতেও তিনি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানসহ নানা পদে থাকার পাশাপাশি বর্তমানে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভোলা অঞ্চলের লালমোহন ও তজুমদ্দিনে বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই প্রবীণ নেতা।
৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ল।








