২০২৬-এ পুনরাবৃত্তি ১৯৭৭ : বাবার মতোই কোদাল ধরলেন তারেক রহমান

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া গ্রাম সোমবার সকাল থেকেই যেন উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে। গ্রামের প্রধান সড়কের দুই পাশে ভিড় জমায় নানা বয়সী মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে গৃহবধূ, প্রবীণ নারী-পুরুষ—সবার চোখে ছিল উচ্ছ্বাস। হাত নেড়ে স্বাগত জানাতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। বহু বছর পর ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে পেরে গ্রামবাসীর আবেগ যেন উপচে পড়ছিল।
বিজ্ঞাপন
প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৭ সালে এই একই এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কোদাল হাতে নিয়ে সাহাপাড়া খাল খননের কাজের সূচনা করেছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে অম্লান।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী কুলসুম বেগম সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ জিয়া নিজে মানুষের সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কাজে অংশ নিতেন। আজ তার ছেলেও একইভাবে খাল কাটার উদ্যোগ নিচ্ছেন—দেখে মনে হচ্ছে যেন বাবারই প্রতিচ্ছবি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। প্রায় ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়। একই সময়ে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সেখান থেকে একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি সৈয়দপুর শহর পেরিয়ে দিনাজপুরের বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পুরো পথজুড়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানায়। শহরজুড়ে তখন ছিল উৎসাহ আর কৌতূহলের পরিবেশ।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা সাহাপাড়া খালের অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। স্থানীয় গৃহবধূ শিউলী খাতুন বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকার যে দুর্ভোগ তৈরি হয়, সেটি থেকে মানুষ স্বস্তি পাবে।
বিজ্ঞাপন
খালটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। নদীর পানি ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করে পরে মহানন্দা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নও জোরদার হবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, খালে যদি নিয়মিত পানি থাকে তাহলে মাছ চাষের সুযোগ বাড়বে। আবার দুই পাড়ে গাছ লাগানো হলে গ্রামটা আরও সবুজ হবে। এতে আমাদের এলাকার পরিবেশও ভালো থাকবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কাজে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনিতা নামের এক নারী। তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। আমরা নিজেরাই খাল খননের কাজে অংশ নিচ্ছি। আমাদের নেতা এখানে এসেছেন—এটা আমাদের জন্য গর্বের।
স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি খাল পুনঃখননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এটি অতীতের ঐতিহাসিক উদ্যোগের স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর গোরস্তানে গিয়ে নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন বলে জানা গেছে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে তার যাত্রা করার কথা রয়েছে।








