কারাগারে ঈদ উদযাপন : ভিআইপিসহ সব বন্দির জন্য একই আয়োজন

দেশের ৭৩টি কারাগারে এবার প্রায় ৭৫ হাজার বন্দি উদযাপন করবেন পবিত্র ঈদ। যদিও প্রিয়জনের সঙ্গে থাকার সুযোগ সীমিত, তবু কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে যাতে ঈদের আনন্দের ছোঁয়া কারাগারের প্রাঙ্গণে প্রতিটি বন্দির কাছে পৌঁছায়।
বিজ্ঞাপন
কারা অধিদফতর জানিয়েছে, বন্দিদের জন্য তিন বেলা উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চাইলে তারা স্বজনের দেওয়া খাবারও গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া স্বজনের সঙ্গে দেখা করা বা ফোনে কথা বলার সুযোগও ঈদের তিন দিনে (২১ থেকে ২৩ মার্চ) বিশেষভাবে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলারও।
বিজ্ঞাপন
কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, প্রতিবারই ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। এবার ভিআইপি বন্দিসহ সবাই দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি ও পান-সুপারি পাবেন। সকালবেলায় পায়েস বা সেমাই এবং মুড়ি, রাতে ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা পরিবেশন করা হবে।
কারাগারে বর্তমানে ১৭৯ জন ডিভিশন বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ভিআইপি বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারে ৩৪ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী, ৪২ জন সংসদ সদস্য এবং ৯৮ জন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। এছাড়া ডিভিশন না পাওয়া ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী, ২৮ জন সংসদ সদস্য, দুজন সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য ১১ জন। তারা সবাই ঈদে একই ধরনের বিশেষ খাবার এবং সুযোগ সুবিধা পাবেন।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ বন্দিরা সাধারণত ১৫ দিন অন্তর স্বজনদের দেখা করতে পারেন, তবে ঈদ উপলক্ষে তিন দিনে একবার করে দেখা করার সুযোগ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কারাগার কর্তৃপক্ষ স্বজনের দেওয়া খাবার বন্দিদের কাছে পৌঁছে দেবে। একজন বন্দি সর্বাধিক পাঁচ মিনিট ফোনে কথা বলতে পারবেন।
ঈদের জামাত কারাগারের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল–সন্ধ্যায় কয়েকটি কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলার আয়োজন থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কারাগারগুলোর তত্বাবধায়কদের এই আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে কারা অধিদফতর।








