বিশেষ কারাগারে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা

একসময় দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অনেক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এবারের ঈদ কাটছে কারাগারের ভেতরে। কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে অবস্থানরত এসব ভিআইপি বন্দিরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন একসঙ্গে জামাতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাকে এই বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। ঈদ উদযাপনও তাদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যেই।
কারাগারে থাকা উল্লেখযোগ্য বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও আসাদুজ্জামান নূরসহ আরও অনেকে।
ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকেই পরিবারের কাছ থেকে পোশাক পেয়েছেন, আর যেসব বন্দির পরিবার নেই বা সামর্থ্য কম, তাদের জন্য কারা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি সরবরাহ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানিয়েছেন, ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। বন্দিরা সীমিত সময়ের জন্য স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারবেন এবং নির্ধারিত নিয়মে তাদের দেওয়া খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে ঈদের দিন একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভিআইপি বন্দিরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে জামাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দেশের সব কারাগারে নামাজ ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঈদের দিনের খাবার তালিকায় থাকছে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি দিয়ে সকালের নাস্তা। দুপুরে পরিবেশন করা হবে পোলাও, গরুর রেজালা (যারা গরু খান না তাদের জন্য খাসি), মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতে থাকবে ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া কিছু কারাগারে সরকারি বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে কোমল পানীয় সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। বন্দিরা চাইলে ঈদের দিন স্বজনদের রান্না করা খাবারও খেতে পারবেন।
ঈদের আনন্দকে কিছুটা হলেও ভাগাভাগি করে নিতে কারাগারগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন রাখা হয়েছে। নামাজের পর বন্দিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কারাবন্দি শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। পরদিন আয়োজন করা হবে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
এদিকে, ঈদের তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বন্দিরা সরাসরি স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
দেশজুড়ে মোট ৭৫টি কারাগারের মধ্যে বর্তমানে ৭৩টিতে বন্দি রয়েছে। হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ বন্দি এবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন কারাগারের ভেতরেই।








